ভারতে বিস্তৃত হচ্ছে বিক্ষোভ নিহত বেড়ে ২৩

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩২ এএম

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে ও সহিংসতায় ভারতে নিহত বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে আট বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারাণসীতে বিক্ষোভে পুলিশ গতকাল রবিবার লাঠিচার্জ করলে হুড়োহুড়ির মধ্যে পদপিষ্টে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তবে আন্দোলনে সবচেয়ে অস্থিতিশীল উত্তর প্রদেশ ও দিল্লি। ওই দুই স্থানে শনিবার সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। গতকালও বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর রাজঘাটের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অংশ নেন। যন্তর-মন্তরেও বড় বিক্ষোভ হবে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের শাসক মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল উত্তর প্রদেশ যান। কিন্তু লক্ষ্মৌ বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আটক করা হয়। উত্তর প্রদেশে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল দিনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধিদের।

বিক্ষোভে সব থেকে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে উত্তর প্রদেশে। এ নিয়ে এই রাজ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ১৬ জন। এর আগে আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে সহিংসতায় মারা গেছে ৭ জন।

রাজস্থানের জয়পুরে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সম্প্রদায়ের লোকের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অশোক বলেন, ‘এটা হবে নীরব ও শান্তিপূর্ণ। কোনো সেস্নাগান উচ্চারিত হবে না, প্রদর্শিত হবে না কোনো প্ল্যাকার্ড।’

নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে অন্তত এক হাজার জনকে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশেই ৭০৫ জন আটক হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, বিহার, গুজরাট, কেরালা, মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিক আইনের প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশে পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে আসছিল রাজ্য পুলিশ। কিন্তু গতকাল এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কানপুরে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেফটি জ্যাকেট ও হেলমেট পরিহিত এক পুলিশ সদস্য তার রিভলবার দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন। নিহতদের একজনও পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি বলে দাবি করেছেন উত্তর প্রদেশের পুলিশপ্রধান ওপি সিং। তিনি বলেন, ‘আমরা একটিও গুলি ছুড়িনি।’

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তাল বিক্ষোভ চলার মাঝে নীরব থাকার পর এবার প্রকাশ্য জনসভায় দেশবাসীকে ‘বৈচিত্র্যে’ সম্মান করা এবং ‘বিবিধের মধ্যে ঐক্যে’ বিশ্বের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল দিল্লির রামলীলা ময়দানে ওই জনসভা করেন মোদি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ‘বিবিধের একতা, ভারতের বিশেষত্ব’ শীর্ষক সেস্নাগান দেন। নতুন সেস্নাগান তৈরি করে জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন আমি বলব “বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য”, আপনারা বলবেন “ভারতের বিশেষত্ব”।’

এ জনসভার মধ্য দিয়ে কার্যত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রচার শুরু করলেন মোদি। তবে দিল্লির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলার আগে তিনি তিনবার ওই সেস্নাগান দেন। এরপর নাগরিকত্ব বিল নিয়ে তিনি জনতাকে বলেন, ‘উঠে দাঁড়িয়ে সংসদকে সম্মান জানান। মোদিকে ঘৃণা করুন, ভারতকে ঘৃণা করবেন না। মোদির কুশপুত্তলিকা পোড়ান। তবে সরকারি সম্পত্তি জ্বালাবেন না।’

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতজুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। বিক্ষোভ-মিছিল ঘিরে সহিংসতা-উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লি। উত্তরপ্রদেশে নিহত হয়েছে ১৬ জন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। নাগরিকত্ব বিল নিয়ে মুসলিমদের ফের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কোনো মুসলমানকে তাড়াতে এই আইন নয়। ধর্ম দেখে কাজ করি না। মুসলিমরা নিশ্চিন্ত থাকুন। আমি মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি, এ মিথ্যা দাবি মানুষ গ্রহণ করবে না।’

এদিকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে গুলি চালানোর উসকানি দিয়েছেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। গতকাল ওই আইনের সমর্থনে বের হওয়া একটি ‘শান্তি মিছিল’ থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন ক্ষমতাসীন দলের ওই নেতা। এর আগেও বিজেপির কয়েকজন নেতা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর মদদ দেন। কর্নাটকের মেঙ্গালুরুতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার পর এর সমর্থন করে বিজেপির জাতীয় সম্পাদক এইচ রাজাও বলেছিলেন, ‘গুলির জবাব গুলিতেই দেওয়া হবে। গুলির বদলে গুলি তো চলবেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত