‘আউট’ ব্যাটসম্যানের হেলায় সেঞ্চুরি মিসের গল্প

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৮ এএম

ভানুকা রাজাপাকশে দেখলেন তার ছক্কা মারার চেষ্টা বৃথা। মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচ নিলেন। আম্পায়ার গাজী সোহেল আঙুল তুললেন। উৎসব করলেন বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। রাজাপাকশে ড্রেসিং রুমে চলে গেলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আবার মাঠে ফিরলেন। শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানে অপরাজিত শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান। ৯৬ রান নিয়ে শেষ ওভারে পা রেখে দুটি বল খেলার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ। ওই দুই বলে বাই থেকে আসে ৩ রান। আসলে ২৮ বছরের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হেলায় হারালেন ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করার সুযোগটা। তাও ‘আউট’ হয়ে ড্রেসিং রুম থেকে ফের মাঠে ফিরে।

গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচটা দেখে না থাকলে এই গল্প আপনার কাছে এখন পর্যন্ত এলেবেলে লাগতে পারে। সুতরাং শুরু থেকে শুরু করা যাক। এটি ছিল মাশরাফী-তামিমদের ঢাকা প্লাটুন ও সৌম্য-সাব্বিরদের কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের জয়ে ফেরার ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার এখনকার টি-টোয়েন্টি দলের সদস্য ওপেনার রাজাপাকশে। আগের ম্যাচগুলোতে কমবেশি রান করেছেন। এটাতেও শুরু ছিল চমৎকার।

পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে নাটকীয়তা। লেগ সাইডে সবচেয়ে বড় মারটা দিতে গিয়ে পুরোটা পার করতে পারেননি রাজাপাকশে। খালি চোখে সব ঠিক আছে। আম্পায়ার আঙzলটা তুলেছেন। রাজাপাকশে মাঠ ছাড়তে হাঁটা ধরেছেন। বাউন্ডারি লাইনে পৌঁছানোর আগে আম্পায়ারের ইশারা ছিল তার দিকে। টিভি আম্পায়ার চেক করছেন। বলটা সবদিক থেকে আদৌ বৈধ ছিল কি না নিশ্চিত হওয়াও তো দরকার। তার ইশারা খেয়াল না করে ড্রেসিং রুমে ঢzকে পড়ে ব্যাট-প্যাড রেখে মুহূর্তে শরীর আলগা করেন ব্যাটসম্যান।

ওদিকে মাঠে কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ উত্তেজনা। টেলিভিশন রিপ্লে চেক করে আম্পায়ার জানিয়েছেন ওভারের পঞ্চম বলটি বৈধ ছিল না। ‘নো’ বল। সুতরাং রাজাপাকশে আউট নন। ততক্ষণে অবশ্য কুমিল্লার ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি ক্রিজে চলে এসেছিলেন। ওদিকে ফিল্ড আম্পায়ার ভুল স্বীকার করে রাজাপাকশেকে মাঠে ডাকেন। রাব্বি মাঠ ছাড়ার পথ ধরেন। ঢাকা অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, তামিম ইকবাল, শহীদ আফ্রিদিরা আম্পায়ারের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন।

ব্যাখ্যাটা জটিল নয়। এমনটা আধুনিক প্রযুক্তি ক্রিকেটের অনেক সিদ্ধান্ত নির্ণায়ক হওয়ার পর বেশ কবারই ঘটেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও। বাউন্ডারি লাইন পেরোলে আর ফেরার উপায় নেই এমনটা ভাবার কারণ নেই। আম্পায়াররা কেন ব্যাটসম্যানকে সিদ্ধান্তের ইতি পর্যন্ত মাঠে রাখতে পারলেন না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তো ফিরে এসে রাজাপাকশে ইনিংসের আদ্যন্ত খেললেন। ২০ রানে যেখানে আউট তিনি প্রাথমিক সিদ্ধান্তে, সেখানে ৬৫ বলে ৭ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে হার না মানা ৯৬ রান তুলে ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার। দ্বিতীয়বার মাঠে ফিরতে একটু সময় লেগে গিয়েছিল তার। কিন্তু ৯৬ রান নিয়ে ২০তম ওভারে ঢzকে সেঞ্চুরিটা কেন মিস করলেন? একটি শটের ব্যাপার ছিল।

শেষ ওভারটি ওয়াহাবের। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে রাজাপাকশেকে সুযোগ করে দেন পার্টনার রাব্বি। কিন্তু পরের বলটি ব্যাটে না লাগাতে পারলেও বাই নিয়ে প্রান্ত বদল করেন লঙ্কান। তৃতীয় বলে রাব্বির ২, চতুর্থটিতে বাউন্ডারি, পঞ্চম বলে এক নিয়ে রাজাপাকশেকে শেষ সুযোগটা করে দেন। সেই বলে জোর দিয়ে শট খেলতে চাইলেও মিস। দরকার ছিল একটি বাউন্ডারি। আবার ছোটাছুটি। ২ রান। কিন্তু বাই। ইনিংসের অতিরিক্ত খাতে যে ৩ বাই থেকে, তা এই শেষ ওভারে। যখন চার রান দরকার সেঞ্চুরি করতে তখন কী ভেবে প্রথমেই বাইয়ের সুযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজাপাকশের। এরপর পার্টনারকে এমন সময়ে খেলতে না দিয়ে রাব্বির নিজেরই ৩ বল খেলে দেওয়া তাও এক প্রশ্ন।

১৯ ওভারে ১৪৯। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৬০। এই উইকেটে ম্যাচ জেতানো পুঁজি নয়। জেতেওনি শেষে। সব বিবেচনায় ওই শেষ ওভারটা তাই পেছনে রেখে যায় প্রত্যাশিত প্রশ্ন। ‘আউট’ ব্যাটসম্যানের হেলায় সেঞ্চুরি হারানোর প্রশ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত