হামলাকারীরাই সরিয়েছে ফুটেজ, উপাচার্য চাপে

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫৪ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও যোগ দেন। এ হামলার ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। ওই হামলার সময় ডাকসু ভবনে থাকা সিসিটিভির মনিটর ও সিপিইউ উধাও হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের ওপর তাদের ক্ষোভ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হামলার প্রমাণ ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন স্বয়ং ভিসি। তবে ফুটেজ উদ্ধারে এরই মধ্যে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ হারানোর জন্য ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে দায়ী করেছেন আহত শিক্ষার্থী ও ডাকসুর কর্মচারীরা।

ডাকসু ভবনে হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে– গত সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার পর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গতকাল সকালে মঞ্চের আরেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হত্যাচেষ্টার মামলায় রিমান্ডের আবেদনসহ তিনজনকে আদালতে পাঠায় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে শুনানি শেষে তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভিপি নুরের ওপর বারবার হামলার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। বিকেলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ভিসিকে স্মারকলিপি দিয়েছেন অভিভাবকরা।

গত রবিবার ডাকসু ভবনে ভিপির কক্ষে নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগকেও সক্রিয় দেখা যায়। এ হামলায় আহত ২৮ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ভিপি নুরসহ পাঁচজন এখনো চিকিৎসাধীন।

সনজিত-সাদ্দামসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে নুরের মামলার আবেদন : ডাকসু ভবনে গত রবিবারের হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করেছেন ভিপি নুর। গতকাল তার পক্ষে আবেদনটি নিয়ে শাহবাগ থানায় যান ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের করা মামলার এজাহারের সঙ্গে নুরুল হকের অভিযোগটি সমন্বয় করার জন্য আদালতে পাঠানো হবে।’

দুপুরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘হামলার নির্দেশদাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে আসামি করে ভিপি নুরের পক্ষে আমরা মামলা করেছি।’

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ‘তারা মামলার আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। আবেদনে কিছু সংশোধনী দিতে বলা হয়েছে। এটি পৃথক মামলা হবে না। আগের মামলাতেই এ অভিযোগ নথিভুক্ত করা হবে।’

আবেদনে সনজিত ও সাদ্দাম ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা হলেন– মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাবি শাখা সভাপতি সনেট মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য, মারিয়াম জাহান খান, ভিপি, সূর্য সেন হল; শেখ মুহাম্মদ অনিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ; আঙ্গুর আলীম খান, ভিপি, এএফ রহমান হল; আবু ইউনুস, এজিএস, বিজয় একাত্তর হল; রাকিবুল হাসান ঐতিহ্য, সদস্য, ডাকসু; মাহমুদুর হাসান, সদস্য, ডাকসু; সাদ বিন কাদের চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, ডাকসু; রবিউল হোসেন রানা, সহসভাপতি, ঢাবি ছাত্রলীগ; নিয়ামত উল্লাহ তপন, শিক্ষাবিষয়ক উপসম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ; হাসিবুল হাসান শান্ত, জিএস, জিয়া হল; সিফাতুজ্জামান খান, ক্রীড়া সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ; মিজানুর রহমান, জিএস, মুহসীন হল; ফেরদৌস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ; আবদুর রহিম সরকার, জিএস, এএফ রহমান হল; অনজিল ইমরান তালাশ, সাহিত্য সম্পাদক, এএফ রহমান হল; মাহমুদুল হাসান বাবু, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ; সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া হল ছাত্রলীগ; মামুন বিন সার, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ; ইবনুল হাসান উজ্জ্বল, খাজা আয়ের সুজন, উপ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ; খান মিলন হোসেন নীরব, এসএম হল ছাত্রলীগ; ইমরান আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রলীগ; হৃদয় হাসান সোহাগ, গণশিক্ষা সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ; উজ্জ্বল, চারুকলা ছাত্রলীগ; আরিফুল ইসলাম, ফাতিমা রিপা, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ; আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ (কামাল গ্রুপ); আইনুল ইসলাম মাহবুব, যুগ-সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ; মেহেদী হাসান নিবিড়, মেহেদী হাসান শান্ত, জিএস, বঙ্গবন্ধু হল; জীবন রায়, সহসভাপতি, ঢাবিসহ ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী।

হামলাকারীরাই উধাও করেছে সিসিটিভির ফুটেজ : ডাকসু ভবনের সিসিটিভির (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) মনিটর ও সিপিইউ উধাওয়ের পেছন ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহত শিক্ষার্থী ও ডাকসুর কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকসুর এক কর্মচারী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাকসু ভবনের বাইরে ও ভেতরে নয়টি সিসিটিভি আছে। মনিটর ও সিপিইউ থাকে ডাকসুর জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের কক্ষে। তবে হামলার পর মনিটর ও সিপিইউ উধাও হয়ে গেছে। ঘটনার শুরুতে ডাকসু ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন কয়েকজন। কিছুক্ষণ পর তারা ভবনের ভেতরে ঢুকে ভিপির রুমে হামলা চালায়। রুমের ভেতর থেকে শুধু চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মারধর শেষ করে একজন বলছিল, সিসিটিভির সার্ভার কই? এরই মধ্যে আরেকজন স্যারের রুমের তালা ভাঙতে শুরু করে, ২-৩ মিনিটে তারা তালা ভেঙে সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়। আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামলার পর বিষয়টি জানাতে আমি প্রক্টর ও ডাকসু কোষাধ্যক্ষের কাছে যাই। ফিরে এসে দেখি আমার রুমের তালা ভাঙা। ভেতরে মনিটর ও সিপিইউ নেই।’

হামলায় আহত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘হামলার আলামত নষ্ট করতেই ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ মিলে ফুটেজ গায়েব করেছে।’

হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩ জনের রিমান্ড : ভিপি নুর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের গ্রেপ্তার দুই নেতাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রইচ হোসেন। গত সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, মামলায় মূল আসামি করা হয়েছে আটজনকে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩৫ জনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসামিরা হলেন– মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এএসএম আল সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্য, এএফ রহমান হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান সরকার, কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব হাসান নিলয় এবং জিয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মাহিম।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সোমবার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল সকালে গ্রেপ্তার করা হয় সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তকে। পরে ওই তিনজনকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক মইনুল হোসেন।

প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি : পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছাত্র-জনতা সংহতি সমাবেশ হয়। এতে হামলাকারী ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের জানালা দিয়ে ডাকসু ভবন দেখা যায়। কিন্তু ঘণ্টাব্যাপী হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রক্টরিয়াল টিম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এমতাবস্থায় দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতায় প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। মূলত এ হামলার উসকানি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হয়েছে। সরকার ও প্রশাসনের যৌথ প্রযোজনায় এ হামলাটি হয়েছে।’

আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘এখানে এত ন্যক্কারজনক একটি হামলা হয়েছে, যার নিন্দা জানানোর ভাষা শিক্ষক হিসেবে আমার নেই। এখন কোনো কোনো সাবেক ছাত্রনেতাও কাকে কী বলতে হবে তা নিয়ে বেশ পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, একাত্তর সালে শিক্ষার্থীরা যদি রাজনীতি নিয়ে কথা না বলত তবে কি এই দেশ স্বাধীন হতো? মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা হলো যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা। নুররা সেটাই করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে তারা মামলা করেছে। কিন্তু এটা যেন শুধু লোক দেখানো না হয়।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাংলাদেশের যেকোনো মানুষ দেশের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু আজ ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে আমাদের মুখে টেপ মেরে দেওয়া হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি আহ্বান জানাব, সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে বের করে সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনুন। নতুবা পদত্যাগ করুন।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে হামলার সময় নুরের সঙ্গে বহিরাগত ছিল– এমন বক্তব্য দিয়ে হামলার ঘটনাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, শহীদ ডা. মিলন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন? ভাষাআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও অংশ নিয়েছে। তাহলে এখন বহিরাগত প্রশ্ন আসবে কেন?’

সমাবেশে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। এ দাবিগুলো হলো– হামলার দায়ভার নিয়ে প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ, ডাকসু ভবনের ‘উধাও’ সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার, হামলাকারী ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার। অনতিবিলম্বে এসব দাবি মেনে না নিলে সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম, ভিপি নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার প্রমুখ।

এদিকে সমাবেশে উপস্থিত না থেকে সংহতি জানান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আমানউল্লাহ আমান ও সাবেক জিএস মোশতাক আহমেদ প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে লিখিত বিবৃতি পাঠান সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না।

‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের’ মিছিল ও স্মারকলিপি : নুরদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে কৈফিয়ত চেয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন অভিভাবকরা। গতকাল দুপুরে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে মিছিলটি বের করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল– ‘ভিসি, আপনি জবাব দিন? আমরা আপনাকে বেতন দিই না, ছেলেমেয়েরা কেন নিরাপত্তাহীন?’

পরে ভিসির কার্যালয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন অভিভাবকরা। এ সময় হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি কোনো জবাব দেননি। সিসিটিভির ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ফুটেজ উদ্ধারে পুলিশের সহায়তা চেয়েছি।’ পরে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেন অভিভাবকরা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে অভিভাবকদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের জনগণের টাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয় চলে। শিক্ষকদের বেতনভাতা হয়। আমরা উপাচার্যের কাছে জানতে চেয়েছি, তবু কেন আমাদের সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।’

সাদা দলের মানববন্ধন : ভিপি নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে নষ্ট করেছে এই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এই হামলার পর আমরা শিক্ষক হিসেবে লজ্জিত। শুধু এ ঘটনা নয়, আজ ঢাবির বিভিন্ন হলেও সন্ত্রাসী হামলা চলে। মত ভিন্ন হলেই মার দেওয়া হয়। ভিপি তাদের মতের সমর্থন করে না বলে তাকে মারা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত