ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলন। সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে আছে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক (মিয়ানমারের নাগরিকসহ) কর্তৃক সীমানা লঙ্ঘন বা অবৈধ পারাপার বা অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত হত্যা রোধ। সম্মেলনে বিজিবির ডিজি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের পক্ষে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক ভিভেক জোহরির নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল ওই সম্মেলনে অংশ নেবে। তাদের প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফ্রন্টিয়ার আইজি এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনে আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি করে হত্যা বা আহত করার করার প্রতিবাদ জানানো এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে করণীয় নির্ধারণ, ভারত থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন এবং ভায়াগ্রা বা সেনেগ্রাসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মাদকদ্রব্যের চোরাচালান রোধ। এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য বা মাদকদ্রব্যের কারখানা ও গুদাম বন্ধ করা এবং মাদকের চোরাচালান রোধ, মাদক পাচারকারীদের সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করা। ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান রোধ করা, দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। বালাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশ কর্তৃক সীমান্ত সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত আলোচনা। প্রথম দিনে নয়াদিল্লির বিএসএফের চাওলা ক্যাম্পে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে।
বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, সম্মেলনটি এমন এক পরিস্থিতিতে হচ্ছে যখন ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন দেশটির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে। এতে বাংলাদেশে পুশইন একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই তারা আলোচনার প্রধান এজেন্ডায় রেখেছেন পুশইন বিষয়টি।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধবিষয়ক এক সভাতে পুলিশের বিশেষ শাখার একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ সুপারদের বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুশইনের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে ২৭ ডিসেম্বর চাওলা ক্যাম্প স্টেডিয়ামে বিজিবি ও বিএসএফ ভলিবল টিমের মধ্যে ‘মৈত্রী কাপ টুর্নামেন্ট (ভলিবল)’ হবে। ২৯ ডিসেম্বর সীমান্ত সম্মেলনের ‘যৌথ আলোচনার দলিল’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ৩০ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসবে।
নয়া দিল্লিতে সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বিজিবি পরিচালিত সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী সোমা ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল ভারতে যাবে। প্রতিনিধিদল বিএসএফ পরিচালিত বিএসএফ ওয়াইভস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে এবং অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করবে।
