ফলে ফেল, নম্বরে পাস!

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪০ এএম

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে ফেল করা বরগুনা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাহিরা খানম মার্কশিট (নম্বরপত্র) তুলে দেখেন পাস করেছেন। কোনো বিষয়েই অকৃতকার্য হননি। পেয়েছেন জিপিএ ৩.৮৩। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কার ভুলে শিক্ষাজীবনের এক বছর হারালেন তা জানতে চান এই শিক্ষার্থী। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা তাছলিমা মেমোরিয়াল একাডেমি থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৮২ পেয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে ভর্তি হন তাহিরা খানম। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা দেন তিনি। আশা ছিল ভালো ফল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। সেজন্য পরীক্ষার পরই ঢাকায় বাসা ভাড়া করে মাস তিনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করেন তিনি। ফল প্রকাশের দিন সরকারি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের নির্দিষ্ট নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানতে পারেন ফেল করেছেন। ওই বার্তা দেখে হতবাক হন তিনি। তবে গত ১৭ ডিসেম্বর আবারও পরীক্ষা দিতে ফরম পূরণ করেন তিনি। কৌতূহল মেটাতে তিনি ওইদিনই কলেজ থেকে ২০১৯ সালের এইচএসসির নম্বরপত্র তোলেন। তা দেখে অবাক হন তিনি। কারণ কোনো বিষয়েই অকৃতকার্য নন। পেয়েছেন জিপিএ ৩.৮৩ (এ-)।

গত ২২ ডিসেম্বর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে তাহিরার বড় ভাই ফেরদৌস খান ইমন ফল ফের দেখার অনুরোধ করেন। চেয়ারম্যান তাহিরার রোল নম্বর নিয়ে তার নিজের মুঠোফোনে যাচাই করে দেখেন তাহিরা ফেল করেছেন। এ সময় ইমন নম্বরপত্রের তাহিরার পাসের প্রমাণ দেখান। তখন চেয়ারম্যান বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্টদের ডেকে পাঠান। সিস্টেম অ্যানালিস্টরা নিজেদের কিছু ভুলত্রুটির কথা জানান চেয়ারম্যানকে। এ সময় চেয়ারম্যান পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধন করে দেওয়া হবে বলে ইমনকে জানান। চেয়ারম্যান ওই ভুলের দায় টেলিটকের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান ইমন।

তাহিরার ভাই ইমন জানান, তাহিরা এক বিষয়ে ফেল করলেও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করতেন তারা। কিন্তু তিন বিষয়ে ফেল দেখে তারা তা করেননি। কিন্তু তাহিরা কোনোভাবেই তার অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি আবারও এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

তাহিরার মা সেলিনা খানম বলেন, মেয়ের সব পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। কোনোভাবেই ফেল করার কথা ছিল না। কিন্তু ফল দেখে তিনিসহ পুরো পরিবার খুবই হতাশ হন। কর্তৃপক্ষের ভুলে তার মেয়ের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে একটি বছর। এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য যারা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তি চান তাহিরার মা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুস সালাম বলেন, ফল প্রকাশের সময় তাহিরাকে ফেল দেখেছি। এখন দেখছি পাস। এটা বোর্ডের বিষয়। বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘টেকনিক্যাল মিসটেক হতেই পারে। ফল ঘোষণার ১৫ দিন পর ফের ফল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে সংশোধনী অনলাইনে দেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস বলেন, ‘এই শিক্ষার্থী অন্য জায়গা থেকে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে। এজন্য কিছু তথ্য বিভ্রাট হয়েছে। টেলিটকের প্রকাশিত ফলে ভুল ছিল। পরে সংশোধন করে রেজাল্ট দেওয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী কিংবা তার পরিবার কোনোদিন কলেজে গিয়ে খোঁজ নেননি। এমনকি কলেজ কর্তৃপক্ষও ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেনি। ভুল হবে না, এই গ্যারান্টি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত