চট্টগ্রামের রাশ টানতে পারবে রাজশাহী-ঢাকা?

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪১ এএম

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম পর্ব হয়েছিল দারুণ। যে কারণে দর্শকরা টি-টোয়েন্টি দেখতে আসেন গাঁটের পয়সা খরচ করে, সেই চার-ছক্কার বাহার দেখেছিলেন তারা। পয়সা-উসুল ক্রিকেট। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় পর্বে চার-ছয়ের আনন্দ ছিল আরও বেশি। বন্দর নগরীর পিচ বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক। এই বিপিএলে সেটা আবারও প্রমাণিত। ঘরের মাঠে দুর্দান্ত এক সপ্তাহ শেষ করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী রয়্যালস। ঢাকা প্লাটুন ও খুলনা টাইগার্স যথাক্রমে তিন ও চারে। আর তালিকার শেষ তিন দল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, সিলেট থান্ডার ও রংপুর রেঞ্জার্স। এই অবস্থায় বিপিএল আবার ফিরছে ঢাকায়।

রান ফোয়ারার চট্টগ্রাম পর্বে মাত্র তিন দল আগে ব্যাট করে জয়ের মুখ দেখে। পরে ব্যাট করে জেতা দলগুলোকে সফল রান তাড়ার জন্য শেষ ওভার পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হয়নি। দুটি ম্যাচে দুই দলই দুইশ ছাড়ানো স্কোর গড়েছে। নিজেদের মাঠে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সেখানে চার ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে তারা। এর মধ্যে বিপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে দলটি। কুমিল্লার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৩৮ করে মাত্র ১ রানের জন্য ছুঁতে পারেনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড। এমন সাফল্য চট্টগ্রামকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করে। ৭ ম্যাচ থেকে ৫ জয় ও ২ হারে ১০ পয়েন্ট চট্টগ্রামের। মাত্র দুই পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে দুই ও তিনে যথাক্রমে রাজশাহী ও ঢাকা। ঢাকার ৬ ম্যাচে ৪ জয় আর রাজশাহীর সমান জয় ৫ ম্যাচ খেলে। তবে রাজশাহীর চেয়ে রান রেটে পিছিয়ে আছে ঢাকা।

চট্টগ্রামের পর নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ করেছে রাজশাহী। ঢাকায় প্রথম পর্বে দুই ম্যাচ জিতেছিল তারা। কিন্তু চট্টগ্রামে শুরুতে হারলেও পরের দুম্যাচ জিতে সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখেছে। দলের অধিনায়ক ও সেরা তারকা আন্দ্রে রাসেল ৫ ম্যাচে মাত্র দুবার ব্যাট করার সুযোগ পান। দুবারই অপরাজিত থেকেছেন ক্যারিবীয় এই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। একই সাফল্য দলটির অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবি বোপারার। দুবার ব্যাট হাতে নামা এই ইংলিশ ক্রিকেটারকে আউট করতে পারেননি কোনো বোলার। একই সঙ্গে দলটির দুই তারকা লিটন দাশ ও আফিফ হোসেন সঠিক সময়ে হাফসেঞ্চুরি করে জ্বলে উঠেছেন। তালিকার তিনে থাকা ঢাকা শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে গতি তুলছে। অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে তামিম ইকবাল দলটির নাবিকের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকায় ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা দেশসেরা ওপেনার চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচেও একই সাফল্য দেখান। সিলেটের বিপক্ষে দল জেতানো ৬০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। সেই সঙ্গে হঠাৎ ঝলসে ওঠা তরুণ অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান ঢাকাকে অন্যরকম গতি এনে দিচ্ছেন। কোচ সালাউদ্দিনের কুশলী পরিকল্পনার মেহেদী তিন নম্বরে নেমে দুই ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি তুলেছেন দুইশ স্ট্রাইক রেটে। 

বাকি চার দলের অবস্থা প্রায় একই রকম। ঢাকা পর্ব থেকে ধারাবাহিক সাফল্য দেখানো খুলনা টাইগার্স চট্টগ্রামের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল। তাতে তিন ম্যাচে তাদের শতভাগ সাফল্য। কিন্তু এই পর্বের শেষ দুই ম্যাচ হেরে তালিকার চারে নেমেছে দলটি। এছাড়া ওয়ারিয়র্স, থান্ডার ও রেঞ্জার্স ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও নিজেদের ছন্দ পেতে ব্যর্থ। দুই জয় পাওয়া কুমিল্লার শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও সিলেট ও রংপুরের জন্য কাজটি কঠিন।

দুদিন বিরতির পর কাল দুপুর ২টায় ঢাকা প্লাটুন-চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচ দিয়ে আবার মাঠে গড়াবে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর রেঞ্জার্সের সঙ্গে খেলবে খুলনা টাইগার্স।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত