‘শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অনুপ্রাণিত হও’

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪৮ এএম

স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, চলে গেলেন ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। আমরা তাকে হারানোয় শোক জানাচ্ছি এবং আমাদের শোক প্রকাশ করছি তার পরিবারের প্রতিও। তার অর্জনগুলো অসামান্য এবং অনেকের জীবনে প্রভাব ফেলতে আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। একজন স্বপ্নচারী হিসেবে স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন প্রজন্মের একদল শিক্ষার্থীদের জন্য, যিনি ভেবেছিলেন, সমালোচনার দৃষ্টিতে এবং যিনি ক্ষমতাবান হয়েছিলেন তার জীবনের জন্য অসামান্য একটি শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে। যদিও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হয়েছে মাত্র প্রায় দুই দশক (প্রতিষ্ঠা ২০০১ সালে) আগে, এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্বীকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছে– ‌‘শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অনুপ্রাণিত হও।’ সেদিকেই এগিয়েছে সব শক্তি, সামর্থ্য, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও তারুণ্য নিয়ে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য– প্রতিযোগিতামূলক চাকরি ও সৃজনশীলতার দুনিয়ায় প্রতিযোগিতাতে নামতে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রী তৈরি করা; যারা তাদের সঙ্গীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবেন। স্বাধীনতার পরের বছর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তখনই স্যার ফজলে হাসান আবেদ এই নতুন দেশের গরিবের প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। এখানেও তার স্বাতন্ত্র্য যে, ভারত থেকে নতুন বাংলাদেশের জন্মভূমিতে ফিরে এলেন শরণার্থীরা, তাদের আশ্রয় ও জীবিকা ও জীবনের তাগিদ–স্যার ফজলে হাসান আবেদকে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল। এই লাখ লাখ মানুষের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল তার তরুণ প্রাণ। তিনি তাদের সক্ষমতা গড়ে দিতে লাগলেন প্রজ্ঞা, ভালোবাসা ও কর্মে–যাতে তারা নিজেদের জীবনকে আরও ভালোভাবে চালাতে পারেন। এই ছিল তার সেদিন থেকে আজীবনের মূল কর্ম উদ্দেশ্য। পরে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও শাখা চালু করেছেন আমাদের কর্মবীর। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র, ছাত্রী ও শিক্ষকরা আসেন স্বাধীন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে, যারা পরে ও তখন বিশ্ব সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন। নিশ্চয়ই তারা সবাই– সব কর্মী তার বিশেষ দায়িত্ব পালন আরও অব্যাহত রাখবেন, ছড়িয়ে দেবেন এবং তাকেও ছাড়িয়ে যাবেন। যাদের ভালো থাকার সৌভাগ্য কম আছে, তাদের প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা জানিয়ে পরস্পরের জীবনের পার্থক্যগুলো কমিয়ে দেবেন। মানুষ হিসেবে এক সারিতে নিয়ে আসবেন। বরাবরের মতো–যতদিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক থাকবে; মানুষের ইতিহাসে স্যার ফজলে হাসান আবেদের নাম থাকবে– তার কর্ম এবং জীবনের অর্জনগুলো আমাদের ও বিশ্বকে গর্বিত করবে। এভাবেই তিনি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বাঁচবেন।   
               
ওমর শাহেদ (স্যার ফজলে হাসান আবেদের জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক– তাদের ওয়েবসাইট থেকে অনূদিত)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত