একপলকে স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবনী লিখেছেন রানা মিত্র
ফজলে হাসান আবেদের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতে; সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ মহকুমার (এখন জেলা) বানিয়াচং গ্রামে।
অসাধারণ মেধাবী ছাত্রটির লেখাপড়ার প্রতি ভালোবাসার শুরু নানার কাছে। পড়ালেখা করেছেন পাবনা জেলা স্কুলে। উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন বিখ্যাত ঢাকা কলেজে।
পড়ছেন স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে। সেখানে নৌ-স্থাপত্যবিদ্যা (নেভ্যাল আর্কিটেকচার) পড়ে সেখান থেকে হিসাববিদ্যায় ক্যারিয়ার গড়তে লন্ডন থেকে ‘চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টসে’ গ্রাজুয়েশন বা স্নাতক পাস করেন, ১৯৬২ সালে।
বিদেশে থেকে মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন উত্তাল সময়ের ডাকে, ১৯৬৯ সালে। গ্রহণ করেন ‘শেল’ তেল কোম্পানির চট্টগ্রাম শাখার এক পদ। ছিলেন সিনিয়র করপোরেট এক্সিকিউটিভ। দুই বছরের মধ্যেই অসাধারণ মেধাবী ও কর্মী মানুষটি প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগের প্রধান পদে উন্নীত হন যোগ্যতায়। তিনি করপোরেট এক্সিকিউটিভ হিসেবে সচ্ছল ও প্রাচুর্যের জীবন যাপন করতেন। তবে ১৯৭০ ও পরের স্বাধীনতা যুদ্ধের বছরটি তার জীবন ঘুরিয়ে দিল চিরকালের মতো।
ফজলে হাসান আবেদ ও লাখ লাখ ভবিষ্যতের বাংলাদেশির জীবন বদলে গেল দুটি অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়ে–গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মৃত্যুদূত সাইক্লোনে প্রথমে–‘ভোলার ঘূর্ণিঝড়’ নামে মানবেতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর দুর্যোগে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ মারা গিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। পুরো দেশের ওপর বয়ে গিয়েছে এই মহাপ্রলয়। কৃষিজমি, কৃষকের খামার ধুয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রবল তোড়ে, গ্রামগুলো ভাসিয়ে, উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে। শহরের বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। পথঘাট মুছে গিয়েছে। অন্তত ১০ লাখ লোক প্রবল প্রাকৃতিক আঘাতে বাড়িছাড়া হয়েছিলেন।
বাঙালি এরপর জড়িয়ে গেল ৯টি মাসের মরণ ও রক্তমাখা যুদ্ধে। ১৯৭১ সালেই ফজলে হাসান আবেদ ভালো চাকরি ছেড়ে দিলেন দেশের ডাকে। আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, দেশ তার লড়বে। নানা রাজনীতিবিদ ছিলেন, ফলে ভালোই জানা ও সম্পর্ক ছিল দেশের মানুষের সঙ্গে, তাদের জীবন জানতেন। জেনেবুঝেই দেশে এসেছিলেন ফজলে হাসান আবেদ।
স্বাধীনতার জন্য বাঙালির দেশ কেনার জন্য লন্ডনে ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ ও ‘হেল্প বাংলাদেশ’ নামের দুটি সমর্থন ও সাহায্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত ও সাহায্য সংগ্রহ করেন।
সেই টাকা নিজের দেশের শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেন।
স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন স্বাধীনতার পর পরই। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিসটেন্ট কমিটি’ (ব্র্যাকের আসল নাম); তার দেশের শোচনীয় ধ্বংসযজ্ঞ তুলে ধরতে ও দেশবাসীকে সাহায্য করতে।
দেখলেন, যুদ্ধে তার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ভারত থেকে ১০ লাখ শরণার্থী মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন। তাদের কোনো আশ্রয় নেই, বাড়িঘর সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ফলে দ্রুত তাদের জীবন বাঁচাতে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে নামলেন তিনি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ভারত ও বিশ্বের নানা জায়গা থেকে ফিরে আসা শরণার্থী ও অভাবী মানুষদের জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজ শুরু করলেন কর্মবীর মানুষটি। সিলেটের সুনামগঞ্জের শাল্লা নামের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রথম ত্রাণ কর্মসূচি শুরু করলেন তারা ব্র্যাকের মাধ্যমে। ক্ষুদ্র ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবেই ছিলেন তারা নতুন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বদিকের এক গ্রামে।
যখন ব্র্যাক শুরু করেন, তার বয়স মাত্র ৩৬ বছর।
শুরুতে তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান (তখন এটি সমমনাদের একট কমিটিই ছিল) বিদেশি ও দেশি অর্থবানদের কাছ থেকে ত্রাণ সাহায্য সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন।
অবস্থার বিবেচনা করে এবং দেশের ভবিষ্যৎ বুঝে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদের সামাজিক উন্নয়নে যুক্ত হলো। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল– দারিদ্র্য দূর করা এবং গরিব মানুষদেরই ক্ষমতায়ন করা।
এরপর থেকে সেই লক্ষ্যে নানাভাবে কাজে যুক্ত হয়ে আছেন তারা। লক্ষ্য স্থিরের পর পরই প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে রাখলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ–‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ বাংলায় ‘বাংলাদেশ গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’।
তার তীক্ষ্ম মনোযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে কৃষি, অর্থনীতি এবং সামাজিক উদ্যোক্তার নানা খাতে। ব্র্যাকের গতিপথ তিনি এমনভাবে ঠিক করে দিলেন, ফলে এটি বিশ্বের অন্য যেকোনো এবং সবগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আলাদা ও কার্যকর। তিনি এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে দিয়েছিলেন যে, তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো গ্রামের মানুষদের সাহায্য করার অন্যতম চাবিকাঠি এবং সে কারণেই তারা চালু করলেন ‘ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প’। সেখানে একেবারেই গরিব মানুষদের খুব সামান্য পরিমাণের অর্থঋণ দিয়ে (ঋণটি মহিলাদের দেওয়া হয়), সেই গ্রামের মানুষদের সাহায্যে তার ও তাদের দক্ষতা ও সাংগঠনিক উন্নয়ন কর্মশালার মাধ্যমে জীবনের উন্নতি ঘটানো হয়।
ব্র্যাকের নানা মাত্রার গতিময় কর্মকৌশলগুলোর মাধ্যমে তারা লড়াই করেন ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যের বিপক্ষে। সেগুলোর মধ্যে আছে নির্দিষ্ট মেয়াদ ও অর্থের সমন্বিত উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা। সেগুলোর অন্যতম, বীজ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ; জমি চাষ ও শস্য উৎপাদনের কল চালু, হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষের হ্যাচারি, গরু-ছাগলের দুধ সংগ্রহ ও দুধ বিক্রির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা, গাছ রোপণ কর্মসূচি এবং কারখানার পণ্য মোড়কায়ন করা।
এই সামাজিক ব্যবসা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে গরিব ভোক্তাদের আয়ের পথ করে দেন ব্র্যাক। সেই লাভ থেকে ব্র্যাক তার কর্মীদের বেতন দেয়, নতুন খাত ও ক্ষেত্র তৈরি করে; প্রয়োজনীয় এলাকাগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে, যাতে দরিদ্রতম পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারেন; তাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও ক্ষুদ্র আকারে ব্র্যাক কর্ম এলাকাগুলোতে তৈরি করে দেয়।
টানা ৪৭ বছর ব্র্যাককে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। এই সময়ের মধ্যে দেশের ও বিদেশের সেরা অর্থনৈতিক তত্ত্ব, উদ্যোক্তা, কর্মীই কেবল তৈরি করেনি ব্র্যাক; হয়েছে সারা বিশ্বের মানুষের আস্থার বাতিঘর। মাকির্ন নাগরিক ও কম্পিউটার সার্ভিসের জনক বিল গেটস তার ডাকে ব্র্যাকের কাজ দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকে কৃষি ও উন্নয়ন আবিষ্কার করেছেন একের পর এক। সেগুলোর মাধ্যমে খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করেছেন তারা দেশের সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলোর। লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন তারা, বদলে দিয়েছেন। এসব কর্মের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন গরিবি হটাতে। তাদের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্দিষ্ট মাত্রায় এসে ঠেকেছে। সেই কাজ তারা করেছেন গরিব কৃষকদের মাধ্যমে এবং ক্ষুদ্র সামাজিক উদ্যোক্তা তৈরি করে– সারা বিশ্বজুড়ে।
এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি কাজ করছে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মোট ১১টি দেশে। তাদের সবখানেই মূল কর্ম– কোনো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুবিধাই পান না এমন লাখ লাখ মানুষের কর্ম ও আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়ে জীবনকে অগ্রসর করে দেওয়া।
অসাধারণ এই কর্ম উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ফজলে হাসান আবেদ বাংলাদেশের মানুষ হয়েও লাভ করেছেন এ বছর নেদারল্যান্ডসের রাজার ‘নাইট হুড’ বা ‘নাইট’ উপাধি।
নোবেল বাদে আর সব পুরস্কারই প্রায় তার পাওয়া। নোবেলের সমমান ও মর্যাদার পুরস্কারও লাভ করেছেন। ফলে ব্র্যাকও।
২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টানা চার বছর সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’ ব্র্যাককে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এনজিও হিসেবে স্বীকৃতি জানিয়েছে। সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব, বিভিন্ন উদ্ভাবন, সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান–এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের নিরিখে বিশ্বের ৫শ এনজিওর মধ্যে তুলনায় স্বীকৃতিটি এবার প্রদান করা হয়েছে।
১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্মের পর ধীরে ধীরে উন্নয়ন ও কর্মগুণে ব্র্যাক বেড়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বিশ্বজুড়ে মোট ১০ কোটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন তারা। আছে প্রতিষ্ঠানের অনন্য পারস্পরিক অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো; যেগুলো তাদেরই তৈরি ও বিকশিত; ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প, সামাজিক অনেকগুলো উদ্যোক্তা প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক এবং নতুন খাতে নির্দিষ্ট মেয়াদ ও অংকের নির্ধারিত বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো।
ব্র্যাকের অনুমোদিত ও কার্যকর শাখা আছে দেশগুলো বাদেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসে।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাককে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তার অর্জনগুলোর কারণে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ইদান প্রাইজ ফর এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট (২০১৯)–শিক্ষা উন্নয়নে ইদান পুস্কার; ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের পুরস্কারটি লাভ করেছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে তার দর্শন– লেখাপড়ায় পরির্বতন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লেখাপড়াকে বই এবং বিদ্যালয়ের চেয়ে তিনি বেশি কিছু মনে করেন। আনন্দের মাধ্যমে খেলতে খেলতে তাই তার ব্র্যাকের বিদ্যালয়গুলোকে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া শেখানো শুরু হয়। অসাধারণ এই অস্ত্র তারা যেন সারা জীবন ব্যবহার করেন সেই মন্ত্র দেন সবাই। খেলার মাধ্যমে শেখার মোট ১৪শ’র বেশি শিশুর শিক্ষাকেন্দ্র আছে বাংলাদেশ জুড়ে ব্র্যাকের। তেমন বিদ্যালয় আছে তানজানিয়া ও উগান্ডাতে। তারা মোট ৪০ হাজার ১ থেকে ৫ বছরের ছেলেমেয়েকে সেগুলোতে দেশে পড়ান।
২০১৮ সালে পেয়েছেন লেগো প্রাইজ পুরস্কারটিও শিশুদের জীবন উন্নয়ন, তাদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া, শিক্ষার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবন উন্নয়নে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে।
এর আগে ‘দি ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ–২০১৫’, ‘স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট-২০১৪’ লাভ করেছেন। পুরস্কারটি দারিদ্র্যকে দূর করার জন্য তার অসাধারণ প্রচেষ্টা ও গরিবদের ক্ষমতায়নের জন্য লাভ করেছেন। পেয়েছেন ‘ট্রাস্ট উইমেন হিরো অ্যাওয়ার্ড–২০১৪’।
তার আগে শিক্ষায় অবদানের জন্য ‘ইনিগোরাল ওয়াইজ প্রাইজ ২০১৪’ লাভ করেন (ইনিগোরেট মানে অভিষিক্ত করা)। কাতারের পুরস্কারটি পেয়ে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, ‘আমি একটি ধারণা বা আইডিয়া থেকে এই পথে চলেছি। সেটি হলো, একটি বিশ্ব যেটি সব ধরনের দূষণ থেকে মুক্ত, কোনো ধরনের বৈষম্যই যেখানে নেই। শিক্ষা হলো এই দুই সমাধান খুঁজে বের করার আলো।’
২০০৮ সালে লাভ করেছেন ‘ডেভিড রকফেলার ব্রিজিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড (ব্রিজ মানে হলো সংযুক্ত করা)’। পুরস্কারটি লাভ করেছেন গরিবদের ক্ষমতায়নের জন্য তার ও তাদের উদ্ভাবন ক্ষমতা ও কার্যকারিতার জন্য। তাদের মৌলিক মানবাধিকার লাভে সাহায্য করেন; তাদের সুযোগগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যান তারা। জর্দানের রানী রায়ানা আল আবদুল্লাহ তাকে পুরস্কারটি প্রদান করেন।
২০০৬ সালে ‘ পেয়েছেন ওনাগোরাল ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড–২০০৬’। সেই বছরের জন্য দেওয়া পুরস্কারটি লাভ করেছেন ব্র্যাকের এই প্রাণপুরুষ।
২০০৪ সালে লাভ করেছেন মানব উন্নয়নের অসামান্য ভূমিকা রাখায় জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সমন্বিত পুরস্কার–‘ইউএনডিপি মাহবুবুল হক অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং কনট্রিবিউশন টু হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-২০০৪’। মাহবুবুল হক ছিলেন পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন তাত্ত্বিক। ১০ এপ্রিল ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশের ১৩তম অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে মারা গিয়েছেন।
২০০১ সালে লাভ করেছেন সুইডেনের রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী ওলফ পামের নামে প্রবর্তন করা ‘ওলফ পাম প্রাইজ ২০০১’। পুরস্কারে তিনি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ও ১০ হাজার মার্কিন ডলার লাভ করেছেন।
১৯৮০ সালেই এশিয়ার নোবেল খ্যাত ‘~মন ম্যাগসাসাই অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ–১৯৮০’ লাভ করেছেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
‘অশোকা’ তাকে ‘গ্লোবাল গ্রেটস বা বিশ্ব সেরাদের একজন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন এই ধারণা থেকে যে, পৃথিবীটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটি হলেন একজন সামাজিক উদ্যোক্তা।
তিনি ‘গ্লোবাল অ্যাকাডেমি ফর সোশ্যাল এন্টারপ্রেনিউরশিপ’ নামের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা একজন সদস্য। ‘কমিশন অন হিউম্যান রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট’র একজন সদস্য ছিলেন ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত (কমিশন মানে, নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য নিযুক্ত ব্যক্তিরা)। ‘দি ইন্ডিপেনডেন্ট সাউথ এশিয়ান কমিশন অন প্রভার্টি অলিভেশন’র ১৯৯১-১৯৯১ মেয়াদে সদস্য ছিলেন। তাদের কাজ ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্রদের কষ্ট দূর করতে কাজ করা।
২০১০ সালে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে ‘নাইট’ মর্যাদা প্রদান করেন।
২০১০ সালে জাতিসংঘ মহাসচিব তাকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত স্ব-ক্ষেত্রের কর্মীদের নিয়ে তার পরামর্শক দলের একজন নির্বাচন করেন।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা নিয়েছেন ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানেই মারা গিয়েছেন ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে রাত ৮টা ২৮ মিনিটে।
ঢাকার বনানী বনানী কবরস্থানে প্রথম স্ত্রী আয়েশা হাসান আবেদের কবরে চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে পড়েন গরিবের এই সৈনিক।
(তার কর্মময় জীবন ও অর্জন দি ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ, বিভিন্ন পুরস্কারদাতা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন, ব্র্যাক. নেট থেকে অনুবাদ)
