দায়িত্ব নিয়েই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১০ জানুয়ারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠক শেষে বিশেষ এক ঘোষণা দিয়ে বললেন, ‘আজকের পর থেকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না।’ তারপর বারবার বিভিন্ন বৈঠকে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ও সংসদ অধিবেশনে একই কথা বলেছেন তিনি। কিন্তু গত এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৮ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে দেশের খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ওই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। আর পরের তিন মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বেড়েছে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা এবং সবশেষ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বেড়েছে আরও ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে গত ৯ মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ার পরিমাণ ২২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা।
গত ১৩ নভেম্বর সংসদে খেলাপি ঋণ বাড়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে মোট ব্যাংকঋণ ছিল ১৯ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, শতাংশ হারে ২৬ দশমিক ১৪। বর্তমানে ৯ লাখ ৬২ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ঋণ আছে। এর মধ্যে খেলাপি ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, শতাংশ হারে ১১ দশমিক ৯৬। এই হিসাবে বলব, আমাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়েনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার আওতায় ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ১০ বছর মেয়াদে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এই নীতিমালা জারি করার দিনই পৃথক এক নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, যারা ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করছেন, তাদের ঋণের সুদহার বাজারে প্রচলিত সুদের চেয়ে ১ শতাংশ কম হবে। ঋণখেলাপিদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে জারি করা নীতিমালা উচ্চ আদালতে আটকে যায়। সর্বশেষ আদালত থেকে এই নীতিমালার আওতায় খেলাপিদের সুবিধা দেওয়া বৈধ ঘোষণা করে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।
