সবক্ষেত্রে মানুষের কিছু বদঅভ্যাস থাকে। পড়াশোনাও তার ব্যতিক্রম নয়। এসব বদঅভ্যাস তাড়াতে পারলে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া যায়। ভালো ফলাফলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই বদঅভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করা উচিত। আজ পাঁচটি বদঅভ্যাস নিয়ে আলোচনা করব।
ক্লাসে শিক্ষকের প্রতিটি বাক্য হুবহু লিখে নেওয়া আমরা অনেকেই ক্লাসে শিক্ষকের প্রতিটি বাক্য হুবহু লিখে নিতে অভ্যস্ত। পুরো সময়টা লেখায় ব্যস্ত থাকায় বিষয়টা বুঝে নেওয়ারও তেমন সুযোগ পাওয়া যায় না। এতে করে নোটগুলো পড়তে বসলে অপরিচিত লাগে, কঠিন মনে হয়। তাই লেকচার হুবহু লেখার বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। লেকচারের সংক্ষিপ্তসার লেখার অভ্যাস করতে হবে। বিভিন্ন সংকেত ব্যবহার করেও অনেক দীর্ঘ কথা সংক্ষেপে লেখা যায়।
অতিরিক্ত হাইলাইট করা
অতিরিক্ত মার্ক করে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরিয়ে তোলার কোনো অর্থ নেই। বরং বেছে বেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হাইলাইট করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ক্ষেত্রে ‘কালার কোড’ ব্যবহার করা যেতে পারে। একেক বিষয়ের জন্য একেক কালার। যেমন বেশি গুরুত্বপূর্ণ এক রং, কম গুরুত্বপূর্ণ এক রং। তাহলে মার্ক বেশি হলেও ধরতে তেমন সমস্যা হবে না।
অমনোযোগী হয়ে বারবার পড়া
আমাদের বদঅভ্যাস হলো, মনোযোগ ছাড়া একই অধ্যায় বারবার পড়তে থাকি। একটু পড়ি, আবার এদিকে তাকাই, ওদিকে তাকাই, গল্প করি, আবার একটু পড়ি এই অভ্যাস পরিত্যাজ্য। বরং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে একটা অধ্যায় একবার বা দুবার পড়াই যথেষ্ট। আর মার্ক করা থাকলে শুধু মার্ক করা অংশ পড়লেও চলবে।
পড়ার সময় ঘনঘন বিরতি নেওয়া
এই অভ্যাসটি মোবাইলের কারণে খুবই কমন হয়ে গেছে। একটু পড়ে মোবাইলে ঢুকে পড়া, ফেইসবুকে ঢুঁ মারা, আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি বদঅভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। ঠিক করতে হবে, দু-এক ঘণ্টা পড়ার মাঝখানে কোনো বিরতি দেওয়া যাবে না। বিরতি শেষ হলেই মোবাইল অন করতে হবে।
শেষ মুহূর্তের জন্য পড়া জমিয়ে রাখা
‘অতি মেধাবী’রা এই কাজটি বেশি করে। ‘আরে, আমার তো একটু দেখলেই হয়ে যায়’ এ ধরনের বাক্য তারা আওড়ায়। এটি মারাত্মক এক বদঅভ্যাস। কোনোভাবেই শেষ মুহূর্তের জন্য পড়া জমিয়ে রাখা যাবে না। দিনের পড়া দিনেই শেষ করতে হবে। নয়তো পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
টেন মিনিটস স্কুল অবলম্বনে
