পুরুষের স্তন ক্যানসার

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৩ পিএম

স্তন ক্যানসার যে শুধু নারীর হয়, বিষয়টা এমন নয়। পুরুষও আক্রান্ত হতে পারে এই ক্যানসারে। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষের পরিণতি হয় নারীর চেয়েও ভয়াবহ।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, স্তন ক্যানসার নারীর তুলনায় পুরুষের খুব কম। তবে পুরুষের মধ্যে স্তন ক্যানসার বিকাশের আশঙ্কা সামান্য হলেও তা প্রাণনাশের কারণ হতে পারে।

আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী জিয়াও ওই সুই বহুদিন ধরে এ নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ক্যানসার ডেটাবেস থেকে স্পষ্ট যে, নারীর থেকে পুরুষের সুস্থ হওয়ার হার বেশ কম। দেখা গেছে, নারীর চেয়ে পুরুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসা জটিল রূপ ধারণ করে। এ জন্য দায়ী পুরুষদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা।

এগারো বছর ধরে চালানো সমীক্ষায় দেখা যায়, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ বেশি। বিজ্ঞানী সু জানিয়েছেন, স্তন ক্যানসারে আক্রান্তরা হরমোনাল চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করতে পারেন। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা লাভজনক হলেও পুরুষের ক্ষেত্রে তা নয়। পুরুষরা এ ধরনের হরমোনাল চিকিৎসায় সাড়া দিতে না চাওয়ার কারণ তাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। যেমন- ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা এবং যোগব্যায়াম না করার অভ্যাস।

 

উপসর্গ

বুকের স্তনে পি- অনুভূত হওয়া বা পি- কিংবা ঢেলা অথবা দলা পাকিয়ে যাওয়া হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষের স্তন ক্যানসারের প্রথম উপসর্গ। প্রায় ক্ষেত্রে পি- বা দলা সরাসরি নিপলের পেছনে পাওয়া যায়। কিন্তু তা স্তনের যে কোনো জায়গায় পাওয়া যেতে পারে। অন্য একটি উপসর্গ হচ্ছে নিপলে পরিবর্তন হওয়া। এ পরিবর্তন যে পি- বা দলা অনুভব করা হয় তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। নিপলের আকৃতি পরিবর্তন হতে পারে অথবা নিপল ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। স্তন থেকে রক্তপাতও হতে পারে। যদিও পুরুষের স্তন ক্যানসারের অধিকাংশ কারণ অজ্ঞাত। তবে, ধারণা করা হয়, হরমোনের মাত্রা এই ক্যানসার বিকাশে ভূমিকা রাখে। কারণ ইস্ট্রোজেনের মতো নারী হরমোনের প্রতিক্রিয়ায় স্তন কোষ বৃদ্ধি পায় ও বিভাজিত হয়। যত বেশি বিভাজিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, ডিএনএ কপি প্রক্রিয়ায় তত বেশি সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

প্রত্যেক রোগীর অবস্থা ভিন্ন হলেও নারী-পুরুষ উভয়ের স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় একই। ম্যামোগ্রাম, আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। ক্যানসার কোষ নির্ণয়ে বায়োপসিরও প্রয়োজন হয়। রোগ নির্ণয়ের পর রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। মনে রাখা প্রয়োজন, পুরুষের স্তনে পিণ্ড-, কোনো পরিবর্তন, রক্তপাত ইত্যাদি ঘটনা ঘটলেই দেরি না করে একজন ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত