যে হিমেল প্রকৃতি সোভিয়েত বিপ্লব দীর্ঘস্থায়ী হতে ভূমিকা রেখেছিল, হিটলার ও নেপোলিয়নের মতো ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসকদের পরাজিত করতে সহায়তা করেছিল রেড আর্মিদেরÑ সেই প্রকৃতি আজ রূপ পাল্টেছে। শত শত বছর ধরে যে শহরের মানুষ তুষারাবৃত রাজপথে হুল্লোড় করে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় সেই শহর, বর্তমান রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ১৮৮৬ সালের পর মুখোমুখি হয়েছে উষ্ণতম ডিসেম্বর মাসের। হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রার জন্য খ্যাতির এই শহরে এ বছর গরমকালে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা থাকলেও শীতে নেই তুষারের দেখা। এই অবস্থায় শহর কর্র্তৃপক্ষ নববর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে মস্কোর রাস্তায় ছড়াচ্ছে কৃত্রিম তুষার। দেশটির আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গেল ৩০ বছরে ডিসেম্বর মাে
শহরটির গড় তাপমাত্রা বেড়েছে চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। যা মস্কোসহ পুরো বিশ্বের জন্য অশনিসংকেত। মস্কো এখন হরহামেশাই এমন প্রকৃতির মুখোমুখি হবে।
আবহাওয়াবিদ ভøাদিমির সেমিওনভ বলেছেন, আবহাওয়ার এই আচরণ আসলেই চরম। নভেম্বর মাসে এই শহরের প্রকৃতির যে রূপ থাকে এখন ডিসেম্বরে সেই রূপ দেখতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা ডিসেম্বর মাস থেকে লাফিয়ে নভেম্বরে ফিরে গেছি।
আরেক আবহাওয়াবিদ ও দেশটির আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার প্রধান রোমান ভিলফান্দ বলেছেন, ২০১৯ সালটি ছিল রাশিয়ার উষ্ণতম বছর। শীতকালে শীতের আকাল বৈশ্বিক উষ্ণায়নেরই প্রকাশ। রাশিয়াসহ পুরো মেরু অঞ্চলেও প্রভাব পড়েছে এই উষ্ণায়নের।
এদিকে নববর্ষের সামনে গত কয়েক দিন ধরেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় কারখানায় তৈরি বরফ ভেঙে ছড়ানোর খবর বিশ্ব জুড়েই জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনেকে যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তেমনি অনেকে রসিকতা করতেও পিছপা হননি। ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড মস্কো নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইটে রসিকতা করে বলা হয়েছে, মস্কো বাজেট দিয়ে আপনি চাইলে সব কিছুই কিনতে পারেন, এমনকি শীতও।
তবে অ্যালেক্স নেমেরিক নামের এক নগর কর্মকর্তার দাবি, নববর্ষ উপলক্ষে এই শহরের আছে বরফ নিয়ে নানা ঐতিহ্যময় স্মৃতি। একসময় নতুন বছরের উৎসবে বরফের নানা স্থাপনাও তৈরি হয়েছে। তুষার নিয়ে খেলেছে মানুষ। ঐতিহ্যের সেই স্বাদ আনতেই কয়েকটি রাস্তায় কিছু পরিমাণে বরফ কুচি ফেলা হয়েছে।
