খাদের কিনারে পৌঁছে যাওয়ার পর হঠাৎই যেন অন্যরূপে হাজির রংপুর রেঞ্জার্স। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম ছয় ম্যাচে যাদের জয় ছিল মাত্র একটিতে, সেই দলটা টানা দুই ম্যাচ জিতে নিল। মঙ্গলবার রাজশাহী রয়্যালসকে তারা হারাল দারুণ দাপটে। ৮ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে রইল শেন ওয়াটসনের রংপুর।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর ৪৭ রানে হারিয়েছে রাজশাহীকে। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের পুঁজি গড়েছিল রংপুর। জবাবে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানে থেমেছে রাজশাহীর ইনিংস।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছিলেন রংপুর ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫ রানের ইনিংস। এরপর বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। সঙ্গে লুইস গ্রেগরির অলরাউন্ড নৈপুণ্য। ব্যাট হাতে ২৮ রানের পর বল হাতে নেন ২ উইকেট। রংপুরকে তাই পেতে হলো তৃতীয় হারের স্বাদ। ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত চতুর্থ স্থানে দলটি।
১৮৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসকিন আহমেদের তোপে ভেঙে পড়ে রাজশাহীর টপ অর্ডার। শুরুর তিন উইকেটই তুলে নেন তিন ম্যাচ পর একাদশে জায়গা পাওয়া তাসকিন। আফিফ হোসেনকে (৭) দিয়ে উইকেট উৎসবের শুরু করেন। এরপর লিটন দাস (১৫) ও শোয়েব মালিককে নিজের শিকার বানান। শেষ দিকে নিয়েছেন ফরহাদ রেজার (০) উইকেট।
তাসকিনের টানা তিন আঘাতের পর দুই সেট ব্যাটসম্যান অলক কাপালি (৩১) ও রবি বোপারাকে (২৮) ফেরান লুইস গ্রেগরি। ১৪.১ ওভারে ৯১ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজশাহী। আন্দ্রে রাসেল ঝড়ের বার্তা দিয়েও বিশেষ কিছু করতে পারেনি। ৭ বলে ১৭ রান করে থামেন। ফলে হার মানতে হয় তাদের। রংপুরের পক্ষে মোস্তাফিজ এদিন উইকেট না পেলেও ছিলেন দারুণ ইকোনমিক। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়েছেন তিনি।
এর আগে রংপুর নাঈমের গড়ে দেওয়া শুরুর ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াকু পুঁজি গড়ে। শেষ ১০ ওভারে ১০৭ রান তুলে রংপুর। অধিনায়ক শেন ওয়াটসন আবারো ব্যর্থ হয়েছেন। ৭ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে প্রোটিয়া ক্রিকেটার ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ১৭ বলে ৩১, ইংলিশ অলরাউন্ডার লুইস গ্রেগরি ১৭ বলে ২৮ রান করেন। মোহাম্মদ নবী খেলেছেন ১২ বলে ১৬ রানের ইনিংস। নাঈমের ৪৭ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১ ছক্কা।
শেষে দুর্দান্ত ফিনিশিং দিয়েছেন আল-আমিন ও জহুরুল ইসলাম। আল-আমিন ১০ বলে ১৫ ও জহুরুল ৮ বলে অপরাজিত ১৯ রান করেন। রাজশাহী এদিন ব্যবহার করেছে মোট নয় বোলার। সর্বাধিক ২টি করে উইকেট নিয়েছেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ ইরফান। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন রংপুরের লুইস গ্রেগরি।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকার দ্বিতীয় পর্বের খেলা। একদিন বিরতি দিয়ে ২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সিলেট পর্বের খেলা।
