গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেই নতুন চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে গত ১৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর অনুমোদন দেওয়া হয় আরও দুটির। দুটিই হবে ভাটির জেলায়। একটি আমার জেলা কিশোরগঞ্জে আর অন্যটি ভাটির দেশের রাজধানী সুনামগঞ্জে। কিশোরগঞ্জে হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জে হবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ দুটি নিয়ে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ৫০-এ। অবিশাস্য! তার ওপর আছে প্রায় ১০০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়!
প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের মানই নির্ধারণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার মতো কতজন যোগ্য শিক্ষক বাংলাদেশে আছেন? একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ১০ জন করেও ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্কলার শিক্ষক থাকতেন তাহলেও ১৫০০ জন স্কলার শিক্ষক থাকার কথা। আমি তো বাংলাদেশে ১০০ জন ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্কলার শিক্ষক দেখি না। এখন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেগুলোকে ভালো করার পদক্ষেপ না নিয়ে, শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সংখ্যা বাড়িয়ে শিক্ষার মান কোথায় নিয়ে যাচ্ছি আমরা? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যারা নীতিনির্ধারণ করেন তারা বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু প্রজেক্ট বোঝেন! প্রজেক্ট মানে মানহীন, পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো তৈরি আর টাকা কামানো বোঝেন! বিশ্ববিদ্যালয় মানে কিছু মানুষের ভিসি-প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া বোঝেন! বিশ্ববিদ্যালয় মানে কিছু দলান্ধের কর্মসংস্থান হওয়া বোঝেন। এসব না করে বরং যেগুলো আছে সেগুলোকে সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা উচিত। কিন্তু এই উচিত কাজটি বোঝার জন্যও কিছু উচিত মানুষ লাগবে। আমাদের দেশে এখন এক দিকে যেমন উচিত মানুষের সংখ্যার সংকট তেমনি যে উচিত মানুষেরা আছেন তাদের জন্য উচিত জায়গায় যাওয়াটাও একটি সংকট। পাশাপাশি আছে শিক্ষক ও আমলাদের রাষ্ট্রের ট্যাক্সের টাকায় পিএইচডি করানোর প্রজেক্ট। এমনিতেই অনার্স মাস্টার্স পাস করাতে আমাদের একেকজনের পেছনে রাষ্ট্রের খরচ প্রায় ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। তার ওপর আবার পিএইচডিও করাতে হবে? শুনেছেন পৃথিবীর কোনো দেশ বা পৃথিবীর কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষক বা আমলাদের রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে অন্য দেশে পিএইচডি করতে পাঠায়?
নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় না করে আরও একটি কাজ করা যেতে পারে যা দেশের জন্য আরও বেশি মঙ্গলজনক হবে। একটি আন্তর্জাতিক মানের পোস্ট-গ্রাজুয়েট রিসার্চ ইনস্টিটিউট খুলুন। সেখানে দেশ ও বিদেশের সেরা স্কলারদের নিয়োগ দিন। কিছু বিশেষ স্কলার নিয়োগ দিন যারা কেবল বছরের তিন থেকে চার মাস তাদের পুরো রিসার্চ টিম নিয়ে এসে এখানে কাজ করবেন। সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পোস্ট-ডক নিয়োগ দিন। এসবের ফলে এখানে পিএইচডি করার একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ তৈরি হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি হবে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভালো মানের শিক্ষক সাপ্লাইয়ের কারখানা। এই প্রতিষ্ঠানটি যদি এইরকম ১০ বছর চলতে পারে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। সমস্যা হলো আমাদের রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এত দূরের লাভের দিকে নজর দিতে রাজি নন। তারা নগদ লাভ চান। এই খাদ থেকে যতদিন এরা বেরিয়ে না আসবেন ততদিন দেশের সত্যিকারের উন্নতি হবে না।
এবার একটি সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে কী বুঝি সেদিকে আলোকপাত করি। সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে সত্যিকারের শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সত্যিকারের শিক্ষক নিয়োগের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন নীতি দরকার। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন বোর্ডের সদস্য নির্বাচনে। এই বোর্ডের প্রধান থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিদের একজন যেমন ভিসি বা প্রোভিসি। সঙ্গে থাকেন ডিন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান আর দুয়েকজন বিষয়ভিত্তিক এক্সপার্ট। যে বোর্ডে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের একজন থাকেন সেখানে বোর্ডে অন্য সদস্যের সহমত হওয়া ছাড়া তেমন কিছু করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব। এছাড়া বোর্ডের অন্যান্য সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দলীয় চিন্তা জেঁকে বসেছে। ফলে যারা কেবল প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে সহমত হবেন তাদেরই সদস্য করা হয়। এই ক্ষেত্রে এক্সপার্টরা কত বড় স্কলার সেটি একদমই বিবেচনায় থাকে না।
বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা ধরা হয় পিএইচডি এবং এক থেকে দুটি পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা। আর আমাদের দেশে প্রারম্ভিক পদ হলো প্রভাষক এবং ন্যূনতম যোগ্যতা হলো মাস্টার্স পাস। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর পরই তাকে ক্লাসলোড, শিক্ষক রাজনীতি, হাউস টিউটরের কাজসহ অন্যান্য কাজে এমন ব্যস্ত রাখি যে তার আর পিএইচডি করতে বাহিরে যাওয়া হয় না। আবার দেশেও ভালো পিএইচডির পরিবেশ তৈরি হয়নি। এর মাধ্যমে দেখা গিয়েছে মোট শিক্ষকের একটি বড় অংশেরই আর পিএইচডি করা হয় না। তখন তারা আপন বিশ্ববিদ্যালয়েরই বোঝা হয়ে ওঠেন। এই শিক্ষকদের পিএইচডি করানো তখন যেন প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব। তাদের পিএইচডি করানোর জন্য সরকার নানা নামে ফেলোশিপ চালু করে ইউরোপ আমেরিকার মতো ব্যয়বহুল জায়গায় পিএইচডি করতে পাঠায়। অথচ লাভটা বেশি হয় যেই দেশে পিএইচডি করতে যান সেই দেশের এবং যার সঙ্গে পিএইচডি করবেন তার।
শুধুই কি তাই? ইদানীং আবার আরেকটি নতুন টার্ম শুনছি সেটি হলো ‘পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা বৃত্তি’! এই নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। পৃথিবীর এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলুন তো যারা তাদের কোনো শিক্ষক বা ফ্যাকাল্টিকে বৃত্তি দিয়ে পোস্ট-ডক করতে পাঠিয়েছে। পোস্ট-ডক্টরাল পজিশন কোনো স্কলারশিপ নয়। এটি একটি ফেলোশিপ যেটা একজনকে যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। যেখানে করবেন সেখানকার গবেষণার মান উন্নত হবে তাই সেই প্রতিষ্ঠান অথবা যার সঙ্গে করবেন তার প্রজেক্ট থেকে এই ফেলোশিপ দেওয়া হবে। আমার সঙ্গে যদি কেউ পোস্ট-ডক করেন তাহলে হয় আমার প্রতিষ্ঠান না হয় আমার কোনো প্রজেক্টের আওতায় ফেলোশিপ দিয়ে তাকে নিতে হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক পজিশন বলতে কিছু নেই। ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগেই চার পোস্ট-ডক আছেন। যদিও ভারতে পোস্ট-গ্রাজুয়েট লেভেলের পড়াশুনাও গবেষণা ইনস্টিটিউট ভিত্তিক। কলকাতার ‘এস এন বোস সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্সেস’ ও ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি কাল্টিভেশন অফ সায়েন্সেস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের একেকটিতে ২০ থেকে ৫০ জন পোস্ট-ডক কাজ করছেন। আমেরিকার নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবল নেটওয়ার্ক সায়েন্স সেন্টারে ২০ জন পোস্ট-ডক কাজ করছেন। আমার মতো একজন অধ্যাপকের সঙ্গে ন্যূনতম একজন পোস্ট-ডক এবং ২-৩ জন পিএইচডি ছাত্র থাকার কথা। এইটুকু দিয়ে দেখুন কেমন মাপের গবেষণা হয়। আমাদের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই কোনো পোস্ট-ডক নেই বললেই চলে। সত্যি বলতে কি আমাদের ভালো করে পিএইচডি প্রোগ্রামই চালু নেই। পোস্ট-ডক এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মূল চালিকাশক্তি। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আছে সেগুলোকে এই আলোকে আরও শক্তিশালী করুন।
শিক্ষকদের নিয়োগ পদ্ধতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকদের প্রমোশন নীতিমালা। একটু ঘেঁটে দেখলে সহজেই বোঝা যাবে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই অধ্যাপকের সংখ্যা অন্য সকল পদের যোগফলের চেয়েও অধিক। যেমন রসায়ন বিভাগে কর্মরত ৩৬ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপকের সংখ্যা ২২ আর সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ১৪ জনে। রসায়ন বিভাগ কেবল একটি উদাহরণ। অন্য বিভাগের চিত্র কম-বেশি এইরকমই প্রায়। আমাদের বুঝতে হবে অধ্যাপক হওয়ার পর শিক্ষকরা কী করেন। অধ্যাপক হওয়ার পরই পদটিকে কনফার্ম করার জন্য একটি বা দুটি আর্টিকেল প্রকাশ করতে হয়। একবার পড়হভরৎসবফ অধ্যাপক হয়ে গেলে জীবনে আর গবেষণা না করলেও চলে। ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেল চালু হওয়ার পর অধ্যাপক পদের পর আরও দুটি ধাপ আছে। সহযোগী অধ্যাপক থেকে পদোন্নতি হলে সেই পদটিকে বলা হচ্ছে গ্রেড-৩ অধ্যাপক। পৃথিবীর আরেকটি দেশ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলুন যেখানে অধ্যাপকদের এমন তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি কেন করা হলো? কারণ আমলারা ২০১৫ সালের নতুন বেতন স্কেলের সময় তাদের পদগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করেন যে সেটির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য আমাদের এই কাজটি করা হয়। কিছুদিন আগে একটি প্রজ্ঞাপন আসে। সেখানে বলা হয় গ্রেড-৩ অধ্যাপক থেকে গ্রেড-২ অধ্যাপক হতে হলে একটি গবেষণাপত্র লাগবে। কিন্তু গ্রেড-২ অধ্যাপক থেকে গ্রেড-১ অধ্যাপক হতে হলে কেবল সময়ের অপেক্ষা আর অগ্রজ শিক্ষকদের মৃত্যুর অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার নেই। অর্থাৎ অধ্যাপক হওয়ার পর কেউ ইচ্ছে করলে অবসর যাপনের মতো জীবনযাপন করলেই পারেন। পরবর্তী পদে পদোন্নতির জন্য যেহেতু তেমন কিছুই করার বাধ্যবাধকতা নেই তাই দেখা যায় অধ্যাপক হওয়ার পরই শুরু হয়ে যায় পুরোদমে রাজনীতিতে নেমে পদ-পদবির দৌড়ে লেগে পড়া। শিক্ষকতার কোন পর্যায়ে কে কতজন ছাত্রকে সুপারভাইজ করেছেন, গবেষক হিসেবে প্রয়োজনের চেয়ে কত বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন এসব বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ধরুন একজন সহকারী অধ্যাপকের অত্যন্ত উন্নত আন্তর্জাতিক জার্নালে ২৫টি বা তার বেশি প্রকাশনা আছে। তার পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা আছে, ৫ শতাধিক সাইটেশন আছে, মাস্টার্স ছাত্র সুপারভাইজ করার অভিজ্ঞতা আছে। অথচ সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৭টি আর্টিকেল লাগে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ অধ্যাপকেরও উক্ত সহকারী অধ্যাপকের অর্ধেক সংখ্যক প্রকাশনা ও সাইটেশনও নেই। তার ক্ষেত্রে প্রতি দুই বছরের পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতাকে এক বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ধরে তাকে সহযোগী অধ্যাপক বানাতেও চায় না যে বিশ্ববিদ্যালয় তা বিশ্বমানের হবে কীভাবে? অধ্যাপক বা অন্যান্য পদের পদোন্নতির বারগুলো নামিয়ে এইসব পদের মানকে আমরা নামিয়ে ফেলেছি। তাছাড়া ভালোদের বাছাই করার পদ্ধতিটাকেও আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।
এসবের মূল কারণ হলো শিক্ষকদের কম বেতন আর শিক্ষক রাজনীতি। এই দুইয়ে মিলে গোটা সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলেছি। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম দেখেছি ক্লাসের সেরা ছাত্রদের মাঝে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। এখনকার সেরা ছাত্রদের মাঝে দেখি দেশের বাহিরে চলে যাওয়া ও সেখানে থেকে যাওয়ার স্বপ্ন। বেতন কম হওয়ার কারণে আমরা প্রমোশনকে বেতন বৃদ্ধি হিসেবে দেখি। অথচ প্রমোশন হওয়া উচিত প্রফেশনের উৎকর্ষতা অর্জনের পুরস্কার। সেই পুরস্কারের সঙ্গে বেতনবৃদ্ধি থাকবে কিন্তু আমাদের নজর ওদিকে থাকবে না। সেরা ছাত্রকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চান কিন্তু বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেবেন না তাতো হবে না। ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর পাঁচ বছর পড়ালেখা করে মাস্টার্স পাস করে সরকারি চাকরি করলে তার বেতন সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি দেখুন। আর অনার্স মাস্টার্সের সেরা ছাত্র পাঁচ বছরের পর আরও ৪-৬ বছর পড়াশুনা করে পিএইচডি করে, অনেকেই পোস্ট-ডক করে, পিএইচডি প্রোডিউস করে। এই পার্থক্যটা বুঝতে হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারত এমনকি ভুটানও বুঝেছে। এই পার্থক্য বুঝে শিক্ষকদের একটি আলাদা বেতন স্কেল করতে হবে। স্কেলটা বড় হতে হবে। শিক্ষকরা তো কোটি টাকার গাড়ি, ড্রাইভার, তেল, অযথা বিদেশ ভ্রমণ ইত্যাদি কিছুই চান না।
একদিকে আমাদের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রোমোশনের নীতিমালা কঠিন ও যুগোপযোগী করতে হবে এবং একইসঙ্গে একটি যুগোপযোগী বেতন স্কেল তৈরি করতে হবে। এই দুটোকে আলাদা করে দেখলে এই দেশের শিক্ষার মান জিন্দেগিতেও উন্নত হবে না। পাশাপাশি দেশেই আন্তর্জাতিক মানের পোস্ট-গ্রাজুয়েট রিসার্চ ইনস্টিটিউট খুলে দেশ-বিদেশের সেরা স্কলারদের নিয়োগ দিতে হবে। আর এখন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে সেগুলোর বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। নইলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও রসাতলে যাবে নিশ্চিত। কেবল নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে সংখ্যা বাড়িয়ে কোনোই লাভ হবে না।
লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
