নতুন বছরের প্রথম দিন সেরা কোম্পানি নিয়ে তৈরি সূচক পয়েন্ট হারিয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর দরপতনে গতকাল বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করা নতুন সিডিএসইটি সূচকটি ৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমেছে। একই সঙ্গে ডিএসইর সেরা কোম্পানি নিয়ে তৈরি ডিএস ৩০ সূচকটিও পয়েন্ট হারিয়েছে। মূলত বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপে বড় মূলধনী অধিকাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এতে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের পতনের পরও ডিএসইর প্রধান সূচকটি তার অবস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের সাইড লাইনে থাকায় সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে।
গত দুই বছরের টানা দরপতনের পর অধিকাংশ শেয়ার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। ডিএসইর মার্কেট পিই রেশিও (মূল্য-আয় অনুপাত) বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় রয়েছে। শেয়ার দরের এমন বিনিয়োগ অনুকূল অবস্থানের কারণে নতুন বছরে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও বাজারে তারল্য সংকট, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপসহ বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতেও বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শেয়ার দরের সর্বনিম্ন অবস্থানই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে। তবে গতকালের বাজার পরিস্থিতি তাদের হতাশ করেছে। যদিও ২০১৮ ও ’১৯ সালের শুরুটা ভালো হয়েছিল। সে সময় সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে বছরের প্রথম দিনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। যদিও ওই দুই বছরই শেষ পর্যন্ত বড় পতনের মধ্যে যায় পুঁজিবাজার।
গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচকটি ফ্লাট গেছে। শরিয়াহ সূচকে সামান্য পয়েন্ট যোগ হলেও সেরা কোম্পানি তৈরি দুই সূচকেরই পতন হয়েছে। গতকাল ডিএস ৩০ সূচক ১১ দশমিক ৫ পয়েন্ট হারিয়ে ১৫০১ পয়েন্টে নেমেছে। আর গতকাল যাত্রা করা সিডিএসইটি সূচকটি ৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট হারিয়ে ৮৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন চালু হওয়া সূচকটির পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইবিএল ও আল আরাফাহ্ ব্যাংকের। সিডিএসইটি সূচকে ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস ও জ¦ালানি খাতের কোম্পানিগুলোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এ সূচকে থাকা ৪০ কোম্পানির মধ্যে ১১টি ব্যাংক, ৬টি ফার্মাসিউটিক্যালস ও ১১টি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া একক কোম্পানি হিসেবে গ্রামীণফোনের বড় প্রভাব রয়েছে।
সিডিএসইটি সূচকে থাকা বেশিরভাগ কোম্পানিতেই বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে। টাকার অবমূল্যায়ন না হওয়া ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের বিভিন্ন তহবিল অবসায়নে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ রয়েছে। এর ফলে বড় মূলধনী ও মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়মিত দর হারাচ্ছে। গতকাল সিডিএসইটি সূচকে থাকা ৪০ কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দর কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ ব্র্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর। এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ রয়েছে বিদেশিদের হাতে। এক বছরে এ শেয়ারটি প্রায় ২৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। এছাড়া গতকাল সিটি, ইবিএল, ডাচ্-বাংলা, আল আরাফাহ্ ইসলামীসহ বেশিরভাগ ব্যাংক দর হারিয়েছে। খেলাপি ঋণ ও এক অঙ্কের সুদহারকে কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতাও শেয়ার দরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে স্কয়ার ফার্মা, রেনাটা ও বেক্সিমকো ফার্মাতেও। গতকাল এসব কোম্পানি দর হারিয়েছে। ডিএসইতে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনী কোম্পানি হচ্ছে গ্রামীণফোন। বকেয়া নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া গ্রামীণফোনের শেয়ার দর গত ৯ মাস ধরেই কমছে। গতকালও শেয়ারটি দেড় শতাংশ দর হারিয়েছে। অবশ্য গতকাল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বেড়েছে। মূলত এ খাতটির দরবৃদ্ধির কারণেই গতকাল বড় পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে নতুন সূচকটি।
গতকাল ডিএসইতে প্রায় ৬৩ শতাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগ খাত দেড় শতাংশ করে দর হারিয়েছে। এছাড়া জীবন বীমা ও ফার্মাসিউটিক্যালস বাজার মূলধন হারিয়েছে। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সিমেন্ট খাতের। লাফার্জহোলসিমের শেয়ার দর বাড়ায় পুরো খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে সোয়া ৪ শতাংশ। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার দরবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। এর বাইরে সিরামিক, পাট, প্রকৌশল, খাদ্য ও অনুষঙ্গ, বস্ত্র, সেবা ও কাগজ খাতের দরবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য।
এদিকে নতুন বছরের প্রথম দিনে লেনদেনেও হোঁচট খেয়েছে ডিএসই। ফ্লাট মার্কেটে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থাকায় ডিএসইর লেনদেন আবারও ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ২৯৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৭ শতাংশ কম।
