সুষম খাদ্য নিশ্চিতে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ১২৬ একর এলাকা জুড়ে চলমান প্রকল্পকে আরও বাড়াতে চায় কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। আরও ৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে চুক্তিবদ্ধ ২১০০ কৃষককে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে চায়। এতে আধুনিক পদ্ধতিতে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুসারে, ২০১৮ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২৬ একর এলাকাজুড়ে একটি ডাল ও তেলবীজ বর্ধন খামার এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। উত্ত খামারের আওতায় চুক্তিবদ্ধ চাষি জোন সৃষ্টি করে ইতিমধ্যে ডাল, তেল, ধানসহ নানাবিধ বীজ উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে খামারটিতে আরও ৫০ একর জমি অন্তর্ভুক্ত করে চলমান বীজ উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকা (নোয়াখালী) উপযোগী বীজ উৎপাদন হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য লবণাক্তসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিএডিসি নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৫ কোটি টাকা, বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এজন্য দেশের গবেষণা স্থান ১৮ হাজার ২০০ কেজি ধান, ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের মৌল বীজ সংগ্রহ করে ৭৫০ টন ভিত্তি বীজ ও ৫০০ টন মানঘোষিত বীজ উৎপাদন করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ভূমি উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় লেক-খাল খনন ছাড়াও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এজন্য রাখা হয়েছে বরাদ্দ। এর বাইরে ওই অঞ্চলের ২১০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর বাইরে আরও ১০৫ জন কর্মকর্তাও আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ পাবেন।
প্রকল্পের আওতায় ২টি ট্রাক্টর, ১টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, ১টি সোলার পাম্প, ১টি বায়োপ্লান্ট পাম্ব, ১০০টি প্লাস্টিকের ডানেজসহ আসবাবপত্র, গবেষণাগার স্থাপনে প্রায় ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১টি থ্রি হুইলার খোলা জিপ বাবদ ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। অথচ গত বছর নেওয়া চলমান একটি খামারের অংশ এটি। একই সঙ্গে এসব মোটরযান মেরামত কার্যক্রমের জন্য ৬৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি আগের প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে। এজন্য এটি আগের প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বলে অভিহিত করা যেতে পারে। ফলে নতুন করে বেশ কিছু খাতের আলাদা বরাদ্দের দরকার নেই। কারণ সীমানাপ্রাচীর, গাড়ি, আসবাবপত্র ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কেনা হলে তা হবে দ্বৈততা।
প্রকল্পের আওতায় ১১ আউটসোর্সিং ব্যক্তির জন্য জনবল খাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। অথচ অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রকল্পের আওতায় ৭ জনের সুপারিশ রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ২১০০ কৃষকের প্রশিক্ষণ বাবদ ৩৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ১০৫ কর্মকর্তার জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ১টি বিদেশ সফরসহ আলাদাভাবে ৪০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। কী প্রশিক্ষণ হবে, কোন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
