পাঁচ দিনের টেস্ট বাতিল করে চার দিনের করার ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই কথাবার্তা চলছে। সম্প্রতি আইসিসি ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেল থেকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করেছে। এর পক্ষে সবচেয়ে সরব অস্ট্রেলিয়া। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইংল্যান্ডও।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা মনে করি আইসিসির এই পরিকল্পনা সফল হলে অতিরিক্ত ক্রিকেট খেলার চাপ এবং ঠাসা ক্রীড়াসূচির সমস্যাটা সামলানো যাবে। আমরা অবশ্যই চার দিনের টেস্টের ব্যাপারে আগ্রহী। তবে এই নিয়ে সতর্কও থাকতে হবে। কারণ এই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক, ক্রিকেটার এবং অন্যদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।’
এদিকে ক্রিকেট মহলে চার দিনের ক্রিকেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ও রমিজ রাজার অবস্থান দুই মেরুতে। নিজের কলামে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ভন লিখেছেন, ‘দুই বছর ধরে আমি বলে আসছি, আমাদের চার দিনের টেস্ট নিয়ে ভাবতে হবেই। না হলে টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে।’ ভন আরও জানান, ‘দেখা গেছে একবিংশ শতাব্দীতে টেস্ট ম্যাচের ফল পেতে গড়ে লেগেছে ৩১৮ ওভার। দিনে ৯০ ওভার খেলা হওয়ার অর্থ চার দিনে হবে ৩৬০ ওভার। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাড়ে তিন দিনেই বেশিরভাগ টেস্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে চার দিনের টেস্ট করতে সমস্যা কোথায়।’ তিনি বলেছেন, ‘কিছু কিছু টেস্টে শেষ দিনে অনেক নাটক হয়েছে। দারুণ সব ইনিংস খেলা হয়েছে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য। পাশাপাশি বৃষ্টির আশঙ্কাও আছে। কিন্তু সব কিছু মাথায় রেখেও বলব, বেশিরভাগ টেস্ট এখন চার দিনেই শেষ হয়ে যায়। এইসব ম্যাচের পঞ্চম দিনের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে বা বরাদ্দ থাকছে। ওই অর্থ বাঁচিয়ে ক্রিকেটের স্বার্থে তৃণমূল স্তরে যদি খরচ করা হয়, তাহলে খেলাটারই উন্নতি হবে।’
এদিকে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা টেস্ট বাঁচানোর জন্যই পাঁচ দিনের টেস্ট রাখার পক্ষে। ‘চার দিনের টেস্ট নিয়ে এমসিসি বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছিল, তাতে দেখা গেছে বেশিরভাগ সদস্যই পাঁচ দিনের টেস্টের পক্ষে। আসল ব্যাপারটা হলো সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য ক্রীড়াসূচিতে আরও সময় বের করতে হবে। এমনিতেই টেস্ট কম খেলা হয় বলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ সময় টেস্টের আকার বদলে দিলে বিরূপ প্রভাব পড়বে। সম্পূর্ণ ভুল কারণের জন্য টেস্ট ক্রিকেটকে এইভাবে বঞ্চিত করাটা কি ঠিক?
