নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম নিয়ে আর বিবেচনার সুযোগ নেই। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ জানালে ইসি তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি।
এ সময় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা ইভিএম নিয়েই নির্বাচন করব। ইভিএম নিয়ে আর বিবেচনার সুযোগ নেই। কারণ আমরা দেখেছি, ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন করলে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। আমরা এতদিন ইভিএমে যেসব নির্বাচন করেছি, সেগুলোর ড়্গেত্রে ভালো ফল পাওয়া গেছে। সেজন্য ইভিএমের ওপর আমাদের আস্থা আছে।’
বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর।
গণবিজ্ঞপ্তি জারিসহ সব প্রস্তুতির পর সিটি নির্বাচনে ইভিএম বাদ দেওয়া সম্ভব কি না– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিশন সেটা পারে। কমিশনের সেই ক্ষমতা আছে। কমিশন যেকোনো সময় নির্বাচন স্থগিত করতে পারে, পিছিয়ে দিতে পারে, কোনো নির্বাচন যৌক্তিক কারণে বাতিল করতে পারে।’
ইসি সচিব আরও বলেন, ‘ইভিএমে ভোটের বিষয়ে না জানার কারণে আগে অনেকে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন পৌরসভার ভোটের পর কেউ এটি নিয়ে সমস্যা বা সন্দেহের কথা বলেনি। কমিশন তাদের আহ্বান করেছে, কারও সন্দেহ থাকলে কমিশনে এসে ইভিএম মেশিনগুলো দেখতে পারেন, দেখে তারা কী সিস্টেমে করা যায় বলতে পারেন। এছাড়া ভোটাররাও কেন্দ্রে এসে ভোটের পদ্ধতি দেখতে পারেন। তারপরও কেউ লিখিতভাবে কমিশনকে ইভিএমের বিষয়ে অভিযোগ জানালে কমিশন হয়তো সভায় বসবেন। তারপর যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
ঢাকার দুই সিটিতে ইভিএমে ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘ইভিএমের বিষয়ে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞাপন যাবে। দুই-এক দিনের মধ্যে মোটামুটি সব পত্রিকায় আপনারা তা দেখতে পাবেন। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব সরকারি টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টেলিভিশনে যেন তা প্রচার করা হয়। এছাড়া সিনেমা হলগুলোতে সিনেমা শুরু হওয়ার আগে যেন ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি দেখানো হয়। সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করব যেন বিলবোর্ডের মাধ্যমেও ইভিএমে ভোটের পদ্ধতি দেখানো হয়।’
আর মক ভোট যেকোনো মানুষ যেকোনো দিন নির্বাচনের আগে দিতে পারবেন। কীভাবে ভোট দিতে হয়, তা সব ভোটারই নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে প্র্যাকটিস করে আসতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
মো. আলমগীর বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে দুই-একজন মানুষ যে আশঙ্কা করছেন, এ প্রচারের পর এগুলো থাকবে না। তাদের আস্থা ফিরে আসবে বলে আমার মনে হয়। কোনো প্রার্থী যদি ভোট পুনর্গণনা করতে চান, ইভিএমে তার সুযোগ রয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করতে পারেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টেকনিক্যাল টিম গঠন করে তা তদন্ত করা হবে। আবার কমিশনের ভোট গণনায় সন্তুষ্ট না হলে তারা আদালতে যেতে পারেন। তখনো আবার টিম গঠন করে তদন্ত করা হবে।’
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ইভিএমে কত শতাংশ ভোট সংরক্ষিত থাকবে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভোট সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। তাও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিজে চাইলে করতে পারবেন না, এজন্য ভোটারদের তাকে অনুরোধ করতে হবে। অনেক ভোটারের আঙুলের ছাপ কোয়ালিটি পুওর থাকলে, তার ছাপ না মিললে ভোটার যদি তাকে অনুরোধ করেন, তাহলে তার ব্যালট ওপেন করে দিতে পারবেন। কিন্তু ব্যালটে নিজের আঙুলের ছাপ না এলেও ভোটার যদি তার মাধ্যমে ভোট দিতে না চান, তাহলে তাকে বাধ্য করা হবে না। আর ব্যালট ওপেনের পর বুথের ভেতরে গিয়ে ভোটার ভোট দেবেন।’
ভোটার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে ব্যালট বের করে দিতে অনুরোধ জানালে সেই রেকর্ডও থাকবে বলে জানান মো. আলমগীর।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি। আর সম্পূর্ণ ভোট হবে ইভিএমে।
