প্রশিক্ষণে ৫৩ কোটি টাকা চায় ইসি

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০০ এএম

রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকলেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইভিএম ব্যবহারসহ বিভিন্ন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয় মেটাতে জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত সময়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা চেয়েছে ইসি। এ খাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ বরাদ্দের বাইরে এ খাতে আগামী জুন পর্যন্ত ব্যয় মেটাতে মোট প্রায় ৫৩ কোটি টাকা লাগবে বলেও জানান দিয়েছে সংস্থাটি।

আগামী জুন পর্যন্ত মোট ৬৩ কোটি টাকার বেশি খরচ করবে সংস্থাটি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী মার্চের মধ্যে চট্টগ্রাম, নওগাঁ ও ঢাকার তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরে নির্বাচন হবে। এসব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারসহ বিভিন্ন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয় হবে ৪৪ কোটি টাকা। এ ব্যয় মেটাতেই জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ কোটি টাকা চেয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম প্রশিক্ষণের জন্য টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি একটি অফিশিয়াল ব্যাপার। এ বিষয়ে চিঠিতেই সব বলা আছে। এর বাইরে কিছু বলার নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (বাজেট) মো. আবদুল মমিন সরকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ইসি ঢাকার দুই সিটি করেপারেশন নির্বাচন, জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরের নির্বাচনী প্রশিক্ষণসহ ১৫ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫০ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। এর আগে বাজেটে এ খাতে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেসব নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, তাতে এই ১০ কোটি ২৫ লাখের বাইরে তাদের প্রায় ৩৪ কোটি টাকা প্রয়োজন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ইসি বলেছে, চার ধরনের প্রশিক্ষণ, ই-ফাইলিং, ভিডিও মডিউল ও হিসাবরক্ষণ শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি প্রশিক্ষণসহ আরও কয়েক ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অনুকূলে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। কমিশনের সিদ্ধান্তে ইনস্টিটিউটের চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রুটিন পরিকল্পনার অতিরিক্ত জাতীয় সংসদের কয়েকটি শূন্য আসনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাধারণ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বেশ কয়েকটি নির্বাচন ইভিএমে সম্পন্ন হবে। এজন্য বরাদ্দ করা অর্থের অতিরিক্ত ৫২ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৫ টাকা বাজেট সংস্থান প্রয়োজন হবে।

নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে প্রশিক্ষণের জন্য এত বিপুল পরিমাণ অর্থ চাওয়ায় খুব একটা খুশি নন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছর রাজস্ব আয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংকঋণ নির্ভর হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থবছরের ছয় মাসের মাথায় ৫৩ কোটি টাকা প্রয়োজনের কথা জানিয়ে জরুরিভাবে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত