মেহেরপুর বিআরটিএ দুর্নীতির আখড়া

পাস করার চার বছরেও মেলে না লাইসেন্স

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:৪১ এএম

বাংলাদেশ রোডস ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) মেহেরপুর কার্যালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সঠিক কাগজপত্র ও পরীক্ষায় পাস করার পর দীর্ঘদিনেও মেলে না গাড়ির রেজিস্ট্রশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স। অথচ দালাল ধরে ১০ হাজার টাকা খসালেই ঘরে বসে মাত্র ছয় মাসে মেলে সবকিছু। যানবাহন মালিকদের অভিযোগ, অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি শ্রেণি জনগণকে জিম্মি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বিআরটিএর আঞ্চলিক কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আতিয়ার রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনবল সংকটের সুযোগে কতিপয় কর্মকর্তা দালালদের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করছে। অভিযোগ বিষয়ে গণশুনানি ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরেজমিনে গতকাল বুধবার বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশীদের দীর্ঘলাইনে থাকতে দেখা যায়। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কালক্ষেপণে অনেক যানবাহন মালিক বিরক্তি প্রকাশ করেন। সদর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের আলী কদর জানান, নতুন সড়ক আইনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ চার বছরেও তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাননি। কর্মকর্তারা ইচ্ছে করে দেরি করেন। শহরের বোসপাড়ার আবু সাঈদ শেখ জানান, নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তিনি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। প্রত্যেক মাসে ধরনা দিচ্ছেন। তার দাবি, পরে এসে অনেকে দালাল ধরে পরীক্ষা ছাড়া ঘরে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে গেছেন মাত্র ছয় মাসে।

বিআরটিএ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে প্রত্যেক মাসে দেড় থেকে ২০০ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন আবেদন জমা পড়ে। মাসের পর মাস ঘুরেও লাইসেন্স পান না যানবাহন মালিকরা। ফলে ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই এখন দালাল ধরছেন। গাড়িপ্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নিচ্ছেন। নতুন সড়ক আইনের পর এখানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার আবেদন জমা রয়েছে।

অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগীরা কার্যালয়ে প্রতিবাদ করেছেন। এরপর বিআরটিএ ইন্সপেক্টর সালাহউদ্দিন প্রিন্স তাদের হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সালাহউদ্দিন প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেহেরপুর আমার প্রথম পোস্টিং। সবকিছুতে অনিয়ম চলছিল। এখন নিয়মের মধ্যে আনতে যাওয়ায় একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। দুদক তদন্ত করে এখানে কোনো অনিয়ম পায়নি। মূলত জনবল সংকটের কারণে রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দেরি হয়।’

সম্প্রতি মেহেরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের দুর্নীতি নিয়ে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ করলে, জেলা প্রশাসক আতাউল গণি গণশুনানি করেন। সেখানে কয়েক শ’ মানুষ তথ্য-প্রমাণসহ কর্মকর্তাদের নানা অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গণশুনানিতে আসা অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোকবল বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএর আঞ্চলিক কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আতিয়ার রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার চোখেও নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। জনবল সংকটের কারণে এখন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে। শিগগিরই ভালো কিছু দেখতে পাবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত