ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি না ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডাকডাকগো (DuckDuckGo) সার্চ ইঞ্জিন প্রায় এক যুগ আগে যাত্রা শুরু করে। গুগলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছে। গুগলের চেয়ে আসলেই কি এই সার্চ সেবাটি বেশি নিরাপদ?
বিভিন্ন প্রযুক্তিবিদের লেখা থেকে, মন্তব্য থেকে ডাকডাকগোর দাবির সত্যতা মিলেছে। তারা আসলেই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপনদাতার কাছে বিক্রি করে না, যেটি করে গুগল কোটি কোটি ডলার আয় করে থাকে।
গুগল কিংবা অন্য সার্চ সেবার মতো ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল তৈরি করে না এই ডাকডাকগো। বিজ্ঞাপনের জন্য তো বটেই, বিশেষ সার্চ ফলাফলের জন্যও প্রোফাইল তৈরির বিরোধী ডাকডাকগো। আপনি কখন কী দেখছেন, কী সন্ধান করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কোন অনলাইন শপ থেকে কী কিনছেন তার কিছুই এই সাইট নোট করে না।
টুইটারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি একবার বলেছিলেন তিনি গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেন না। টুইট বার্তায় ডরসি লেখেন, ‘আমি ডাকডাকগো ভালোবাসি। অনেকদিন ধরেই ডিফল্ট সার্চ সেবা হিসেবে এটি ব্যবহার করছি। এর অ্যাপটিতো আরও দারুণ।’
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, ডাকডাকগো যদি এতই ভালো হবে, তাহলে গুগলের একচ্ছত্র আধিপত্য তারা ভাঙতে পারছে না কেন, আর তাদের ব্যবসার কৌশলই-বা কী?
মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল এখন প্রযুক্তি জগতের ডন। তাদের নানা ব্যবসা। যা একটির সঙ্গে আরেকটি সম্পৃক্ত। জিমেইল, ছবি সার্চ করা, ম্যাপ দেখা, শপিং করা, ইউটিউব চালানো সব সেবাই তারা দেয়। তাই তাদের কাছে না গিয়ে উপায় থাকে না সাধারণ ব্যবহারকারীদের। ওয়েব পেজের বিশাল ইনডেক্স, বেশি বেশি সার্ভার, দ্রুত রেসপন্স আর শক্তিশালী অ্যালগরিদমই গুগলকে অন্য দশটি সার্চ ইঞ্জিন থেকে এগিয়ে রাখে।
এত কিছুর বাইরে গুগলের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ ভুরি-ভুরি। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটা তারা যেভাবে বছরের পর বছর বিক্রি করে আসছে, সেটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। আপনার কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি অর্থ না নিয়েও দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে। আপনার কী রংয়ের জামা পছন্দ, অনলাইনে কী কিনতে চান সবটাই মূলত গুগলের জানা। ফেসবুক, ইউটিউবে আপনার এসব সার্চ দেখে তারা অটোমেটেড অ্যালগরিদম দিয়ে আপনার প্রোফাইল তৈরি করে। আর সে অনুযায়ী আপনার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন পাঠায়।
গুগলের এই ‘অনৈতিকতা’কে আক্রমণ করে ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে ডাকডাকগো। প্রতিষ্ঠানটি এভাবে গুগল থেকে নিজের পরিচয় আলাদা করে থাকে, ‘আমরা যেখানে ইন্টারনেট প্রাইভেসি কোম্পানি গুগল সেখানে ইন্টারনেট অ্যাডভারটাইজিং কোম্পানি।’
ডাকডাকগো নিজেদের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে, পুরোনো মডেল অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদের সার্চ বক্সে আপনি গাড়ি সার্চ দিলে অধিকাংশ সময় গাড়ির বিজ্ঞাপন দেখবেন। যে গাড়ি আপনার সার্চ রেজাল্টে আসছে তাদের থেকে অর্থ নিচ্ছে কোম্পানিটি।
ডাকডাকগো বলছে, ‘গুগল এবং ফেইসবুক এভাবে ব্যবসা করলেও পৃথিবীর অন্যতম ধনী কোম্পানির তালিকায় থাকত। কিন্তু বেশি লাভের আশায় তারা বাড়তি কিছু করে।’
গুগল থেকে ডাকডাকগোতে যেতে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। DuckDuckGo লিখে সার্চ দিলে তাদের সাইট আসবে। লিংকে ক্লিক করে ভেতরে ‘Add DuckDuckGo to…’ লিংকে ক্লিক করে এই সার্চ সেবা ব্যবহার করতে পারবেন
ডাকডাকগো থেকে চাইলেই আপনি গুগল সার্চ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট খুঁজতে পারবেন। !g লিখে সার্চ দিলেই গুগলে চলে যাবে। একইভাবে !a লিখে সার্চ দিলে অ্যামাজন আসবে, !m লিখলে আসবে গুগল ম্যাপস, !w লিখলে আসবে উইকিপিডিয়া।
ডাকডাকগো যদি পছন্দ না হয়, তাহলে আরও কয়েকটি নিরাপদ সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারেন: StartPage, Swisscows, Qwant and Yippy। গুগলের থেকে এগুলো অনেক বেশি নিরাপদ।
