পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবর কারও অজানা নয়। দাম যা-ই হোক, পরিমাণে অল্প হয়েও ভোক্তার হাতে পেঁয়াজ তুলে দেওয়াই ছিল সরকারের জন্য বড় সংকট। তড়িঘড়ি কিছু আমদানি ও চড়া দাম পেতে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে কৃষক তা সরবরাহ করায় বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি কমেছে, তবে দাম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়ার আড়ালে প্রায় তিনগুণ হয়ে গেছে রসুনের দামও। তবে তার খোঁজ কেউ রাখেনি। সরকারের হিসাব বিবেচনায় নিলে দাম বাড়ার বিবেচনায় পেঁয়াজকে হারিয়ে গত এক বছরে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে রসুন। যদিও বছরজুড়েই চাহিদার তুলনায় বাড়তি রসুন ছিল দেশে।
কেবল পেঁয়াজ-রসুনই নয়, রান্না সুস্বাদু করতে ব্যবহৃত ভোজ্যতেল, লবণ, আদা, জিরাসহ অন্যান্য মসলার দামও এক বছরে অনেক বেড়েছে। গরিবের আমিষ নামে পরিচিত মসুর ডালের দামের ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু হয়নি। পরিবারে মিষ্টি কিছু রান্না করতে অপরিহার্য চিনির দামও এই সময়ে বেড়েছে অনেকটা। গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবিষয়ক এক পর্যালোচনা সভার কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের সঙ্গে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের বাজারদর তুলনা করে এটি তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যার একটি কপি দেশ রূপান্তর পেয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজারদর ১৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। এখন তা ৫০ থেকে ১১০ টাকা। যদিও বাজারে মিসরের বড় আকারের পেঁয়াজ ছাড়া ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ পাওয়া যায় না। আর সরকারের বিক্রয় সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গতকাল রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দর ছিল ৫৫ থেকে ১২০ টাকা। আর দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। টিসিবির হিসাবে, গত এক বছরে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২১৮ শতাংশ ও দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩১৭ শতাংশের মতো।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই এক বছরের ব্যবধানে রসুনের দাম পেঁয়াজের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতি কেজি রসুনের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৮০ টাকা। এখন তার দাম ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়েছে ১৭৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। বাজারে সংকটের কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও রসুনের ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেয়নি।
পেঁয়াজ-রসুনের বাইরে রান্নার কাছে অতি জরুরি ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে এই সময়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেলের কেজি ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা। এক বছর আগে এটি ছিল ৭৮ থেকে ৮৪ টাকা। অর্থাৎ, বছর হিসাবে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর টিসিবির হিসাবে, বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দর ছিল ৯১ থেকে ৯৩ টাকা, আর বোতলজাত সয়াবিনের দর ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। টিসিবি বলছে, এক বছরের ব্যবধানে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই, আমদানিও করতে হয় না রান্নায় অতীব জরুরি পণ্যটি। তা সত্ত্বেও ক্যালেন্ডার পাল্টানোর আগেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবের খাতায় পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
সব ধরনের তরকারিতে ব্যবহার্য জিরার দামও প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে এক বছরে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এক মাসের মধ্যে জিরার দাম বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। এক বছর আগে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা দরের জিরা এখন সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরম মসলা ছোট এলাচের দাম এক বছরে বেড়েছে ১৪০ শতাংশ ও দারুচিনির বেড়েছে ৩১ শতাংশের মতো। তবে অন্য মসলার সঙ্গী হয়নি লবঙ্গ। এক বছরের ব্যবধানে লবঙ্গের দাম কমেছে ৩০ শতাংশের বেশি। গত ৩১ ডিসেম্বর লবঙ্গের কেজি ছিল ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা, এক বছর আগে যা ছিল ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা।
