ঢাকার দুই সিটিতে ৯ দলের ১৩ মেয়র প্রার্থী বৈধ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৪ এএম

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ৯ দলের ১৩ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর সিটির সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) ছাড়া বাকি ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর দক্ষিণ সিটির সাত মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উত্তর সিটির বৈধ প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম,বিএনপির তাবিথ আউয়াল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) শাহীন খান।

দক্ষিণ সিটির বৈধ মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির হাজি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, এনপিপির বাহারানে সুলতান বাহার, গণফ্রন্টের আবদুস সামাদ সুজন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

এদিকে উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৭৪ জন ও ১৮টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ কাউন্সিলর ও দুজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৬০ জন ও ২৫টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১০২ জন। যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মধ্যে ২৬ কাউন্সিলর ও দুজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনআইএলজি ভবনে যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ও বাতিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানান ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম কামরুল ইসলাম সিটি করপোরেশনের ভোটার নন বলে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারেনি।

মেয়রপ্রার্থীদের উদ্দেশে এ রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় আছে, আমি নিজেও মাঠে যাব। নির্বাচন কমিশনের কোনো দল নেই, আমাদের কাছে সব প্রার্থী সমান। শহরের নাগরিকদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় তা আপনারা দেখবেন। আচরণবিধি ভঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে কোনো রকম প্রচার-প্রচারণা আপনারা চালাতে পারবেন না। আপনারা আচরণবিধি মেনে চলবেন।

এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিএম কামরুল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ডিওএইচএস এলাকায় থাকি বলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলো। আমার যে ভোটার তালিকা আছে, দুই নম্বর ওয়ার্ড এবং সিটি করপোরেশন দেখানো হয়েছে। সেহেতু আমি যোগ্য ভোটার হিসেবে জমা দিয়েছি। এখন আমি আইনের সহায়তা নেব।’

এ বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা বলেন, জিএম কামরুল ইসলাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার ভোটার হওয়ায় সিটি করপোরেশনে তার ভোটাধিকার নেই।

এদিকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈধ হিসেবে ঘোষণা দেওয়াটাকে আমার দলের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে ধরে নিচ্ছি। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত অনেক তথ্য পেয়েছি। সরকারের অনেক সংস্থা তড়িঘড়ি করে অনেক চেষ্টা করেছিল খুঁত বের করার। আমাকে ঋণখেলাপি বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা পারেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইন ও প্রচারবিধি মেনেই নির্বাচনী প্রচারে এগোব। আমি আশাবাদী, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগগুলো রেখেছি, সেগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হবে।’

সিপিবির প্রার্থী সাজেদুল হক রুবেল বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি নয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সিপিবির যে লড়াই, জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের যে লড়াই, সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সিপিবি লড়ছে এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।’

অন্যদিকে সকালে রাজধানীর গোপীবাগে দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেনের কার্যালয়ে উপস্থিত হন প্রার্থীরা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুদ্দিন মিলনের মনোনয়নপত্রে নিজের নাম ভুল থাকায় তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। বাকিদের মনোনয়নপত্রের তথ্য সঠিক ছিল। পরে সব মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর মেয়র প্রার্থীরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি হতে যাওয়া এ নির্বাচন ‘অত্যন্ত সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার তাপস। তিনি বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে বলে আমি আশা করি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী আরও বলেন, ‘যদি তীব্র শীতও থাকে আমি আপনাদের কাছে আহ্বান করব, ভোরে ঘুম থেকে উঠে আপনার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটের মাধ্যমে আপনাদের সেবককে নির্বাচন করবেন। আমার দল এবং আমার নির্বাচনী কার্যক্রমে যারা অংশ নেবেন সবাইকে অনুরোধ করব কমিশনের সব নিয়মকানুন মেনে প্রচার চালাবেন।’

এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ভোটাররা অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে আসবেন। এটি আপনাদের অধিকার, আপনারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তারাও যেন আচরণবিধি মেনে চলেনÑ বিনীতভাবে এ অনুরোধ করছি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্র্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল কর্র্তৃপক্ষ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত