চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের উত্তর ছলিমপুর মৌজায় বনাঞ্চলের ভূমিতে বিবিসি স্টিল কোম্পানিকে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড স্থাপনে বরাদ্দ দেওয়া জমির ইজারার সিদ্ধান্ত অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চিহ্নিত বা বিজ্ঞাপিত (নোটিফাইড) বনাঞ্চলকে উপেক্ষা করে বনবিরুদ্ধ ব্যবহার করতে কাউকে ইজারা না দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশ পরিবেশ আইন সমিতির (বেলা) রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাঈদ আহমেদ কবীর। বিবিসি স্টিলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মেহেদী হাসান চৌধুরী।
রায় অনুযায়ী, বন আইনের ৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞাপিত যেসব বনাঞ্চল রয়েছে, সেগুলো এই আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হোক বা না হোক সংশ্লিষ্ট বনাঞ্চল ও এর ভূমিতে বনবিরুদ্ধ ব্যবহার করতে কাউকে ইজারা বা লাইলেন্স দেওয়া যাবে না।
বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, বন আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী প্রথমে সংরক্ষিত বনাঞ্চল নোটিফাইড বা চিহ্নিত হবে, এরপর কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে এর মালিকানা, পরিমাপ এসব ঠিক করে আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৮৪ সালে গেজেট নোটিফিকশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ লাখ ৬৫ হাজার একর নোটিফাইড বা চিহ্নিত বনাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে উত্তর ছলিমপুর মৌজায় ৪০০ একর জায়গা নোটিফাইড হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি স্টিলকে ৭ দশমিক ১০ একর জায়গা ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাইকোর্টের রায়ে ওই ইজারা বাতিলের পাশাপাশি চিহ্নিত বনাঞ্চল ও এর ভূমিতে বনবিরুদ্ধ কোনো কাজে ব্যবহার করতে কাউকে ইজারা বা লাইলেন্স দেওয়া যাবে না বলা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সীতাকুন্ডের উত্তর ছলিমপুর এলাকায় চিহ্নিত বনাঞ্চলে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড স্থাপনে বিবিসি স্টিলকে ৭ দশমিক ১০ একর জায়গা ইজারা দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৮ এপ্রিল রিট আবেদনটি করা হয়। শুনানি নিয়ে ১৩ মে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ওই বনাঞ্চলে বিবিসি স্টিলের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়।
