খেলাটা জিতলে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারত নানাভাবে। কৌশলের খেলায় মার না খেলে ১৭৩ রানের টার্গেট তাড়া করে জেতা খুব কঠিনও ছিল না। শেষে বোঝা গেছে। কিন্তু ব্যাটে প্রায় শেষ পর্যন্ত ভুগে যাওয়া মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ঢাকা প্লাটুনের দিন ছিল এটি। বোলিংয়ে এগিয়ে থেকে এবারের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রথম দেখায় জিতল তারা। খুব সতর্কতায় ১২ রানের জয় তুলে নিয়ে প্লাটুনটা স্বস্তিতে বটে। হেরে গেলে ব্যাটিং কৌশলের ভুল নিয়ে অনেক কথা হতে পারত। বাঁচল তা থেকে।
শুধু বাঁচা নয়। আসলে টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রত্যেকটা জয় বড় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেটি প্লে-অফে যাওয়ার জন্য শুধু নয়, সেখানে শেষটায় নিজেদের এক-দুইয়ে রাখার কথা বিবেচনায়। ঢাকা টস হেরে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে তুলেছিল ১৭২। অধিনায়ক মুশফিক প্রায় শেষ পর্যন্ত লড়েও জয়ের কিনারা করতে পারলেন না। ৮ উইকেটে ১৬০-এ থেমেছে তার দল।
দুই ম্যাচ জিতে আবার হার খুলনার। জিতলে রাজশাহী রয়্যালস, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চেয়ে ১ খেলা কম খেলেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকত তারা। ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে হতো ১২। এখন ৯ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ নিয়ে ঢাকা সবার ওপর। সমান ম্যাচে ১২ রাজশাহী ও চট্টগ্রামের। আগের ১০ নিয়ে খুলনা চারে।
খুলনার কৌশলগত ভুলের সবচেয়ে বড়টি দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ হাশিম আমলাকে বসিয়ে রাখা। সেই সঙ্গে মাত্র ২ ম্যাচ খেলা এবং কোনোটিতে ব্যাট না করা আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে সাইড বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে এনে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপেনিং পার্টনার বানিয়ে দেওয়া। শুরুতে পিছিয়ে পড়েছে রান তাড়ায়। আর তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ দলের বিশ্ব তারকাদের ছাপিয়ে ম্যাচের সেরা। ৪-০-৩২-৪ ম্যাচ বিশ্লেষণে খুলনাকে ডুবিয়েছেন শুরু থেকে। মাথার ব্যবহারে চমৎকার একেকটা বলে বড় বড় উইকেট নিয়ে মুগ্ধ করেছেন। দেখিয়েছেন চাপ নেওয়ার ক্ষমতাও।
ঢাকা জানত তাদের সংগ্রহ বড় নয়। তবে তারা ধন্যবাদ দেবে পাকিস্তানি আসিফ আলিকে। ১৭তম ওভারে নামেন। ১৬.৩ ওভারে মুমিনুল হক (৩৬ বলে ৩৮) বিদায় নেওয়ার সময় ৪ উইকেটে ১১৮ ঢাকার। শেষ ৩ ওভারে আসিফ ঝড়ে ৫২ না তুলতে পারলে কী যে হতো! পরে ৩৩ বলে ৪ ছক্কা ও ৬ চারে ৬৪ রানের ইনিংস খেললেও মুশফিক ম্যাচ জেতাতে পারেননি।
আসিফ ১৩ বলে অপরাজিত ৩৯ করেছেন। ৪ ছক্কা ও ২ চার। স্ট্রাইকরেট ৩০০। পঞ্চম উইকেটে আরিফুল হকের সঙ্গে তার ২১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানের জুটি আসলে ম্যাচের অন্যদিকের ব্যবধান গড়েছে। আরিফুল ও মুমিনুলের ৪৭ বলে ৫৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি আসলে ঢাকাকে পেছনে টেনে ধরেছিল। মুমিনুলের আউট আশীর্বাদ হয়ে আসে।
তার আগে ঢাকার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রশ্নবিদ্ধ থিসারা পেরেরা, ফাহিম আশরাফ, আসিফ আলির মতো খেলোয়াড়কে রেখে আরিফুলকে নামিয়ে। আরিফুল ৩০ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত। তামিম ইকবাল (২৫) ও এনামুল হক বিজয়ের (১৫) ওপেনিং জুটি ৫.৩ ওভারে ৪৫ দিয়েছিল। দুজনে কাছাকাছি সময়ে বিদায় নিলে মেহেদী হাসানের ব্যর্থতার পর মুমিনুল-আরিফুলের উল্টো ধরনের জুটি। আসিফে শেষে রক্ষা।
মিরাজ-বিপ্লব জুটিতে ওপেনিংয়ে বিস্ময় উপহার দেওয়া খুলনা দুজনকেই হারিয়েছে ২০ রানের মধ্যে। ২০ বছরের ডানহাতি পেসার হাসানের প্রথম শিকার মিরাজ (১৫)। তার আগে মাশরাফী তুলে নেন বিপ্লবকে (৪)। বিপ্লবের দ্রুত বিদায় স্বস্তির হতে পারত চার নম্বরে উঠে আসা শামসুর রহমান (৩) স্কোর করলে। রাইলি রুশো (১৮) আর মুশফিকের ওপর বিরাট ভরসা খুলনার। কিন্তু হাসানের একটা স্বপ্নের ডেলিভারি এমন সাপের মতো ছোবল মেরে উঠল যে ব্যাট সরানোর সময় পেলেন না রুশোর মতো ইনফর্ম ও দক্ষ ব্যাটসম্যান। ব্যাট ছুঁয়ে বল উইকেটকিপারের হাতে।
৪৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মুশফিক একা টানছিলেন দলকে। আফগান নাজিবুল্লাহ জাদরানের (২৯ বলে ৩১) সঙ্গে মুশফিকের ৫৬ রানের জুটি। কিন্তু সঙ্গী তাল মেলাতে পারেননি। রবি ফ্রাইলিঙ্ক (৬) হতে পারতেন নায়ক। কিন্তু সেøায়ারে তাকে হাসান বোল্ড করেছেন।
শেষ ১৮ বলে ৪৮ দরকার খুলনার। প্রথম তিন বলে মুশফিককে হাসান দিয়ে দেন ১২। এরপর অফসাইডে ফিল্ডিং সাজিয়ে দেন তামিম। ওয়াইড ইয়র্কারে ডট হাসানের। পরের বলে লো ফুলটসে মারতে গিয়ে মুশফিক আউট। তাতে ম্যাচটা আসিফ বা মুশফিকের নয়, শেষটায় হাসানের।
