পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের পাল্টায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকারিয়া পিন্টুর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংগঠনের তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের ভাষ্য, গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত। তবে ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ভাঙচুরের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত নয়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সকালে ঈশ্বরদী সরকারি এসএম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ ও তূর্যর সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। এ খবর পেয়ে ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আবির হোসেন শৈশব সেখানে গেলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন তাদের কলেজ ক্যাম্পাস ছেড়ে বাইরে যেতে বলে। এ সময় কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী শৈশবকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনার জের ধরে দুপুরে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আরিফকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আরিফকে না পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকারিয়া পিন্টুর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তখন ওই কার্যালয়ে অবস্থানকারী ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুজ্জোহা পিপ্পু, যুবদল নেতা সাঈদ ও ছাত্রদল কর্মী কৃষ্ণকে মারধর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের।
ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জুয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে অংশগ্রহণ করা নিয়ে এসএম মডেল কলেজ ক্যাম্পাসের বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা শৈশব মারধরের শিকার হয়। পরে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বিএনপি নেতা পিন্টুর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসান রনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পিন্টুর অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো নেতা জড়িত নয়। তারা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, ‘ঘটনার পরপরই শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
