জেনারেল কাসেম সুলেইমানি ছিলেন বহুদিনের টার্গেট

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৩৩ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী মনে করা হতো কাসেম সুলেইমানিকে। ৩ জানুয়ারি তাকে হত্যা করা হয় বাগদাদে। তার মৃত্যুর পর চলছে উত্তপ্ত আলোচনা। নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি মধ্যপ্রাচ্য। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

জেনারেল সুলেইমানির ওপর হামলা

৩ জানুয়ারি, ২০২০। রাত ১টার দিকে বাগদাদ এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসছিলেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের এলিট ফোর্স ‘কুদস ফোর্সের’ শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সুলেইমানি (৬২)। ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো সে সময় লেবানন বা সিরিয়া থেকে ফিরছিলেন। আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশন। প্রাথমিকভাবে সেই ঘটনায় কারও মৃত্যুর খবর না জানা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর) জানায়, তাদের বিমান হামলায় ইরানের জেনারেলের মৃত্যু হয়েছে। তার হাতে থাকা একটি আংটি দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয় এবং ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তার মৃত্যুর খবর। এই হামলায় আরও দুজনসহ নিহত হয়েছেন ইরাকের প্যারামিলিটারির সহকারী প্রধান আবু মাহদি আল মুহানদিস। তিনি ছিলেন আধা-সামরিক বাহিনী হাশেদ আল-শাবির উপপ্রধান। ইরাকি সামরিক গোষ্ঠী ‘কায়তাব হিজবুল্লাহ’র সংগঠকও ছিলেন মুহানদিস। এই গোষ্ঠীর সঙ্গেই গত কয়েকদিন ধরে লড়াই চলছিল আমেরিকার। এরাই বাগদাদে আমেরিকান দূতাবাসে হামলা করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই জেনারেলের ওপর এ হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। ভবিষ্যতে ইরানকে যেকোনো হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতেই সুলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করা মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ইরাকে আমেরিকান দূতাবাসে হামলা

কিছুদিন আগে বাগদাদে আমেরিকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে এক মার্কিন কন্ট্রাক্টরকে হত্যা করেছিল ‘কায়তাব হিজবুল্লাহ’ নামের জঙ্গি গোষ্ঠীটি। এ ঘটনার পরেই ইরাকে অবস্থিত কায়তাব ক্যাম্পে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী। এ হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুর কথা জানায় গোষ্ঠীটি এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণ চালায়। আক্রমণে দূতাবাসে ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমনকি দূতাবাস অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

এ ঘটনার বদলা নেওয়া হবে বলে তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে রাতেই বাগদাদে অতিরিক্ত ৭৫০ জন সৈন্য পাঠায় আমেরিকা। দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, আমেরিকা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। তবে প্রতিশোধে যে জেনারেল সুলেইমানির ওপর হামলা করা হবে এমনটাও ভাবা যায়নি। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় এবার দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলো। এ গুপ্তহত্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরেই তার ওপর গোপন নজরদারি রাখছিল এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তার ওপর হামলা করা হয়।

জেনারেল কাসেম সুলেইমানি এবং কুদস ফোর্স

ইরানের ‘কুদস ফোর্সের’ শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাসেম সুলেইমানি। ১৯৯৮ সালে এই ফোর্সটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকেই এটি পরিচালনা করে আসছিলেন জেনারেল সুলেইমানি। ফোর্সটির কাজ হচ্ছে, ইরানের বাইরে অন্য জায়গায় গোপন অভিযান পরিচালনা করা। তিনি তার কাজের জন্য সরাসরি জবাবদিহি করতেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে। এক কথায়, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক প্রভাব তৈরি করতে চাইছে তার মূল কারিগর ছিল জেনারেল সুলেইমানি। ইরাক, লেবানন এবং সিরিয়াতে এক ধরনের প্রভাব তৈরি করা, এমনকি ইয়েমেনেও হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইরানের যে যোগাযোগ আছে বলে আমেরিকা বলে সেখানেও জেনারেল সুলেইমানির একটি ভূমিকা আছে বলে পশ্চিমাদের ধারণা। বিবিসি’র মতে, কোন পররাষ্ট্রনীতিতে ইরান চলবে, কোন দেশের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে, কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে এমন যে কোনো সিদ্ধান্তেইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত থাকলেও শেষ কথাটি বলতেন জেনারেল সুলেইমানিই। তিনি যা বলতেন সেটিই গ্রহণ করা হতো এবং সেই অনুযায়ীই ইরানের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হতো। অনেকেই তাকে ইরানের একজন জাতীয় বীর মনে করতেন। ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে নানা সংবাদ পরিবেশন করা হতো। পররাষ্ট্র সংক্রান্তসহ নানা কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের নজরে ছিলেন বহুদিন ধরে। তাদের ধারণা ছিল, ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড এবং কুদস ফোর্সকে যদি থামানো না যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে সামরিক এবং অন্যান্যভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে সেটিকে থামানো যাবে না।

ইরানি বিশেষজ্ঞরা জেনারেল সুলেইমানিকে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বলেই মানেন। সুপ্রিম নেতার পরেই তার অবস্থান। সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীও ছিলেন তিনি।

জেনারেলের রাজনৈতিক উত্থান

 ১৯৫৭ সালে এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেন কাসেম সুলেইমানি। দারিদ্র্যের সঙ্গে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে তাকে। পরিবারের দেনা শোধ করার জন্য তৎকালীন রাজপরিবারের কাজে প্রবেশ করেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজপরিবারের পতন হলে ক্ষমতায় আসেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। খোমেনির বিপ্লবী সেনায় যোগ দেন সুলেইমানি। তিনি যোগ দেওয়ার দুই বছরের মধ্যে ইরাকের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে সেনাবাহিনীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। গুরুতর আহত হন তিনিও। তবু যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে আসেননি। সে যুদ্ধে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন সুলেইমানি। পান ব্রিগেডের দায়িত্ব। শুরু হয় তার উত্থানের গল্প। বলা হয়, সেই সময়েই ইরাকের সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু তার।

২০০৫ সালে ইরাকে সরকার গঠনের পর সেখানকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেন সুলেইমানি। সে সময় ইরাকে গঠিত হয় দেশটির সবচেয়ে পুরনো প্রক্সি বাহিনী হিসেবে পরিচিত শিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও প্যারামিলিটারি বাহিনী বদর অর্গানাইজেশন। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় ইরাকি মিলিশিয়াদের আসাদ সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করতে নির্দেশ দেন সুলেইমানি।

এছাড়া ইরাকে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসবিরোধী যুদ্ধে ইরান-সমর্থিত শিয়া প্যারামিলিটারি ইউনিটগুলো ও বিখ্যাত হাশদ আল-শাবি (পপুলার মোবালাইজেশন ফোর্সেস) ইরাকি মিলিটারির সঙ্গে মিলে লড়াই করে। এসব সংগঠনের অনেকগুলোই ছিল সুলেইমানির নিয়ন্ত্রণে। লেবাননে হিজবুল্লাহরও প্রধান অভিভাবক ছিলেন কাসেম সুলেইমানি। ইসরায়েলের পুনঃ পুনঃ বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এখন। পুরোপুরি ইরানের হয়ে কাজ করছে তারা।

জেনারেলকে হত্যাচেষ্টা

জেনারেল সুলেইমানি নিহত হয়েছেন এমন গুজব এর আগে বেশ কয়েকবার ছড়িয়েছিল। ২০০৬ সালে ইরানে এক বিমান দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হলে সে সময় সুলেইমানির মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক বোমা হামলার পরও তার মৃত্যুর খবর ছড়ায়। ২০১৫ সালে আসাদপন্থি বাহিনীর নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সিরিয়ায় এক হামলায় নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন সুলেইমানি এমন খবরও ছড়িয়েছিল সে সময়।

২০১৯ সালের আগস্টে সিরিয়াজুড়ে রেভ্যুলুশনারি গার্ডের ঘাঁটিগুলোয় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ জানান, সে সময় সুলেইমানিকে হত্যার চেষ্টা করছিল ইসরায়েল। সর্বশেষ গত অক্টোবরে তেহরান দাবি করেছে, তারা সুলেইমানির ওপর ইসরায়েলি ও আরব সংস্থাগুলোর একটি হামলা চেষ্টা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছে।

কী হতে পারে এরপর

ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় চমকে গিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটিকে তারা উসকানি হিসেবে দেখেছে আর এ ঘটনার পেছনে সুলেইমানিই ছিলেন বলে তাদের বিশ্বাস। তাকে টার্গেট হিসেবে ধরেই এ হামলার অনুমোদন দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জেনারেলের ওপর এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির জন্য বসতে চাইলে অবশ্যই সেখানে ইরানকে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ইরানের যেমন পরমাণু কর্মসূচি ছাড়তে হবে, তেমনি মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাবও ছাড়তে হবে। এই ঘটনা এখন এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের মুদ্রামানও কমিয়ে ফেলেছে দেশটি। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় হেরে গিয়ে ইরান সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও তেহরান বেশ বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে। আর এ ঘটনার পর তেহরানের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। জেনারেল সুলেইমানি যেহেতু একজন যোদ্ধা ছিলেন তার মৃত্যুটাও ধরে নেওয়া যায় যুদ্ধের ময়দানেই হয়েছে। আর এমন অবস্থায় ইরানিরা যদি একই পরিস্থিতিতে আমেরিকান কাউকে পায় তাহলে তারাও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারে। কূটনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জেনারেলের হত্যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

সুলেইমানির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, আল্লাহর কাছে তার চলে যাওয়ার মানে তার পথ বা মিশনের শেষ নয়, বরং যারা তার এবং অন্য শহীদদের রক্তে হাত লাল করেছে, সেই সব অপরাধীর জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর প্রতিশোধ। তাকে হত্যা আলি খামেনি নিজের ওপর আঘাত বলেই বর্ণনা করেছেন। কারণ তার সঙ্গেই জেনারেলের ভালো সম্পর্ক ছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, আমেরিকা যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে প্ররোচনা দিচ্ছে বা করছে এটি তারই অংশ। সুলেইমানির মৃত্যুতে তিনদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোকের’ ঘোষণাও দিয়েছে ইরান।

এই হামলাকে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ইরাকের মাটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির শর্তের লঙ্ঘন ঘটেছে এ হামলায়। এর ফলে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের পাশে ইসরায়েল

রাষ্ট্রীয় সফরে গ্রিসে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সফর সংক্ষেপ করে দেশে ফিরে এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিজেকে রক্ষার অধিকার রয়েছে। ট্রাম্প দক্ষভাবে সে কাজটিই করেছেন। ইসরায়েল ট্রাম্পের পাশে আছে।’ যুক্তরাষ্ট্র যতটা না সুলেইমানিকে নিয়ে ভাবে তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ইসরায়েল। জেনারেলকে তারা প্রকাশ্যেই ‘এক নম্বর শত্রু’ বলে থাকে। ইসরায়েলের মতে, লেবানন, সিরিয়া, গাজা থেকে সুলেইমানির সৈনিকরা ক্রমেই তাদের ঘিরে ফেলছে। ইরানকে ইসরায়েলের কাছাকাছি নিয়ে আসায় সুলেইমানির ওপর ইসরায়েলের তিক্ততা বরাবরই বেশি। সুলেইমানির প্রতি কঠোর হতে আগে থেকেই ইসরায়েলের ওপর সৌদিদের চাপ ছিল বলে ধারণা করা হয়। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ২০১৮ সালের নভেম্বরে এমন রিপোর্টও করেছে যে, সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যার অন্তত এক বছর আগে একই খুনে দল ইসরায়েলের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে সুলেইমানিকে নিয়ে অনুরূপ কিছু পরিকল্পনা করছিল। এ কাজের বাজেট ছিল দুই বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্য হাসিলে ভাড়াটে কোনো শক্তিকে ব্যবহারের কথা ছিল। অজ্ঞাত কারণে তা সফল হয়নি।

জেনারেলকে হত্যায় রাশিয়া, চীনের সমালোচনা

জেনারেল সুলেইমানিকে হত্যার ঘটনায় মার্কিন সেনা অভিযানের সমালোচনা করেছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রা রাশিয়া এবং চীন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সুলেইমানিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মার্কিন অভিযানকে তারা ‘অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ’ হিসেবে মনে করে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের জাতীয় স্বার্থরক্ষার জন্য সুলেইমানি বরাবরই অনুগত ছিলেন এবং বিশ্বস্তভাবে সেবা করে গেছেন। ইরানের মানুষের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি আমরা।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় শক্তি প্রয়োগের বিরোধী চীন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পক্ষদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে, শান্ত থাকতে ও সংযম অনুশীলন করতে অনুরোধ করব আমরা, যাতে অস্থিরতা বৃদ্ধি না পায়।’

পরাশক্তিরা ছাড়াও জেনারেলের হত্যা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই। মার্কিন ডেমোক্রেটিক দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তিনি খড়কুটোর বাক্সে ডায়নামাইট ছুড়ে ফেলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের একটি সংঘাতের মুখোমুখি পড়তে পারি আমরা।’ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকানরা হুমকির মুখে পড়বেন। ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস মারফি টুইট করে বলেন, ‘সুলেইমানি আমেরিকার শত্রু, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেভাবে কংগ্রেসে আলোচনা না করেই ট্রাম্প বাগদাদে ঢুকে তাকে হত্যা করলেন, তাতে সমস্যা আরও জটিল হলো। যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলো। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত