খাদ্যগুদামে বিক্রি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের ধান

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০১:১২ এএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরে চলতি আমন মৌসুমে খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযানে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান নেওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ও মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে এই ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে।

এদিকে, লটারিতে নাম ওঠা দুএকজন কৃষক ধান দিতে পারলেও তাদের নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে কার্ডপ্রতি এক হাজার টাকা ও ৪০ কেজির পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৪৩ কেজি করে ধান। অনেকে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার হয়রানির কারণে গুদামে ধান না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সেই সুযোগে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ী কৃষকদের কার্ড কিনে গুদামে ধান দিচ্ছেন। 

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরবরাহকৃত কৃষক কার্ডধারী ১২ হাজার ২৬ জন কৃষকের মধ্য থেকে গত ১ ডিসেম্বর উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ৮৯২ জন কৃষককে নির্বাচন করা হয়। যার তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ২৬ টাকা কেজি দরে প্রতিজন কৃষক ১ টন করে ধান সরকারি খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন। চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ৮৯২ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই তালিকা মোতাবেক এর পর থেকে লটারিতে নাম ওঠা কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। সম্প্রতি কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান নেওয়ার এই কার্যক্রম স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বন্ধ করে দিলেও পরে তা আবারও শুরু হয়।

হাকিমপুরের ছাতনি গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক ও টুডু সরেন বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের জন্য লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে আমরাও শুনেছি। কিন্তু আমরা মোটামুটি মানের কৃষক। আট থেকে ১০ বিঘা করে জমি আমরা আবাদ করেছি, কিন্তু আমাদের কারও নাম নেই সেই তালিকায়। আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের আশপাশের অনেকেই আছে যারা একমুঠো ধানও আবাদ করেনি, যাদের ধান নেই, যাদের ধান দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তাদের নাম সেই তালিকায় উঠেছে। অথচ আমরা যারা ভালো কৃষক যারা দুই থেকে চার টন ধান দিতে পারব তাদের নাম সেই তালিকায় নেই। অথচ যারা ধান আবাদ করে নাই কিন্তু তালিকায় নাম উঠেছে, তারা বিভিন্ন নেতা বা দলীয় কোনো প্রভাবের কারণে ধান কিনে নিয়ে তারা গুদামে ধান দিতে পারছে। আবার লটারিতে নাম ওঠা অনেক কৃষক তাদের কার্ডগুলো দুই  থেকে তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ছাড়াও খাদ্যগুদামের নানারকম হয়রানির কারণে অনেক কৃষক লটারিতে নাম ওঠার পরেও সেখানে ধান দিতে পারছে না এমন বেশ কয়েকজনকে আমরা দেখেছি। যারা বাধ্য হয়ে সেই সিন্ডিকেটের কাছে তাদের কার্ড বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রাফিউল আলম বলেন, যেসব কৃষক কৃষিকার্ড করেছেন কৃষি অফিসে যাদের তালিকা রয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে থেকে লটারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ৮৫২ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারপরেও যাদের জমি নেই বা আবাদ করছেন না এমন যদি ঘটে থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হবে না।

হিলি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা যোসেফ হাসদা বলেন, হয়তো কেউ বিচ্ছিন্নভাবে কৃষকের কার্ড কিনেছিল তারাই হয়তো ধান দিয়েছে। তবে ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪৩ কেজি ধান নেওয়া ও ১ হাজার করে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত