শুরু থেকেই পুরুষ তারকাদের দখলে বলিউড। সেখানে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার অন্যতম সারথী বিদ্যা বালান। এই অভিনেত্রী ইশকিয়া, ডার্টি পিকচার, কাহানির মতো কিছু ব্যতিক্রমী সিনেমা করে প্রমাণ করেছেন নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও বলিউডে ১০০ কোটির বেশি আয় করতে পারে। বিদ্যা বালানকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গেছে গত বছর ‘মিশন মঙ্গল’ সিনেমায়। এ সিনেমায় নারী তারকার আধিপত্য ছিল। সম্প্রতি বিদ্যা বলিউড হাঙ্গামার সঙ্গে কথা বলেছেন তথাকথিত বাণিজ্যিক সিনেমাতে নায়িকার ভূমিকা ও নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘যখন আমি ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’ সিনেমাটি করেছিলাম, তখন অনেকেই বলেছিল- নারীদের নিয়ে এগোনো একটি সিনেমায় এত ছোট একটি চরিত্রে কেন অভিনয় করছি? কিন্তু আমি গল্পের গভীরতায় বিশ্বাসী। তাই কারও কথা শুনিনি। সিনেমাটি ভালো ব্যবসা করেছিল। আর এখন তো সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এখন নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও ভালো ব্যবসা করছে। যদিও মিশন মঙ্গল সিনেমায় অক্ষয় কুমার ছিলেন। তিনি একজন বড় তারকা। তাই এই সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন দ্রুত বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আমি বিশ^াস করি আগামীতে নারীকেন্দ্রিক সিনেমাও ২০০ কোটি-৫০০ কোটি আয় করবে, তাও অক্ষয় কুমারকে ছাড়া!’’ তবে বিদ্যা বালান এটাও জানেন এই পরিবর্তন হুট করেই হবে না। আস্তে আস্তে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিদ্যা এ বিষয়ে আরও গভীর আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন কোনো সিনেমার আগে-পরে ‘নারীকেন্দ্রিক’ কথাটা শোনে তখন সেটিকে ভেবে বসে ভুল কিছু দেখানো হবে বা এটি সেক্সিস্ট ফিল্ম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমি মনে করি নারীকেন্দ্রিক কথাটার মধ্যে কোনো ভুল বা বিশেষ উদ্দেশ্য নেই। এ সিনেমাগুলোর গল্পে নারীরা প্রধান চরিত্রে কাজ করেন। অন্য সিনেমায় যেমন পুরুষের নানা কর্মকা- তুলে ধরা হয়, তেমনি এতে নারীদের নানা ধরনের দিক উন্মোচন হয়। তাই আমি নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নামকরণকে খারাপ কিছু মনে করি না। কারণ দর্শক আস্তে আস্তে সত্যটা বুঝতে পারছে। তারা টিকিট কেটে সিনেমা দেখছে ও ব্যবসাসফল করছে। আমাদের আরও বেশি নারীকেন্দ্রিক সিনেমা করা উচিত। তাহলে কিছু দিন পর দেখব, গল্পের হিরো পুরুষ নাকি নারী তা নিয়ে কেউ ভাববেই না। তারা শুধু একটি ভালো গল্প দেখতে পাবে।’
×
