নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে প্রকল্প অনুমোদনের তোড়জোড়

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:২১ এএম

নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৬১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের তোড়জোড় চলছে। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এর আগেও তার সিটিজুড়ে সড়কে ওয়েস্ট বিন বসিয়ে সফল হননি। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ডিএসসিসির ১৮টি ওয়ার্ডে ৯০০ ওয়েস্ট বিন বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এছাড়া গাড়ি ধোয়াবাবদ ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে গতকাল রবিবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও হয়েছে। সভায় প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিএসসিসিকে বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধনী এনে নতুন করে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এ প্রকল্প নিলে একই সিটিতে দ্বৈত প্রকল্প নেওয়া হবে। কারণ এর আগে একই ধরনের দুটি আলাদা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কাজ শেষ হয়নি। তাই নতুন করে এ প্রকল্পের প্রয়োজন রয়েছে কি না তা আলোচনার প্রয়োজন আছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যানবাহন-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৬১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ৪৯৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ও ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ১২৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দে প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ২৩ জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে বর্জ্য পরিবহন ও অপসারণের লক্ষ্যে পরিবহন ভেহিক্যাল এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, বর্জ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে এসটিএস নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পিইসি সভায় বলা হয়েছে, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজের জন্য ৩৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাতুয়াইলে স্যানেটারি ফিল্ড সম্প্রসারণে ভূমি উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের পরিধি বাড়াতে প্রথম সংশোধনী গত বছর ৩১ ডিসেম্বর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থান নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের যৌক্তিকতার ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

প্রকল্পের আওতায় দুটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামলাবে। প্রকল্পের আওতায় একটি করে মাইক্রোবাস ও জিপ, দুটি পিকআপ, ২৩টি মোটরসাইকেল, ২ টনের ১৮টি কম্পেটর, ৫ টনের ৩০টি কম্পেটর, ১৬ টনের হক লোডিং কনটেইনার ক্যারিয়ার ১৫টি, ৫ টনের কনটেইনার ক্যারিয়ার ২১টি, ড্রাম ট্রাক ১৮টি, রিকশাভ্যান ১৮০টি, হ্যান্ড ট্রলি ১৮০০টি, ফাইবার প্লাস ওয়েস্ট বিন ৩৬০টি, ওয়েস্ট বিন ৯০০টি, রোড সুইপার ৯টি ও ৪টি বুলডোজারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহন কেনা হবে। এছাড়া ১৮টি করে কার ওয়াশ পুল, গভীর নলকূপ ও এসটিএল স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও তা উন্নয়ন করতে আলাদা আলাদাভাবে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের কিছু ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার মধ্যে আছে ভূমি উন্নয়নের ৫৪ কোটি টাকা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ৩৬ কোটি টাকা এবং এসটিএস নির্মাণের ৩৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবনায় মাটির পরিমাণ ও এসটিএসের আয়তনের কথা বলা হয়নি। এসব কাজ ডিএসসিসি তার নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন। তারপরও প্রস্তাবিত ভূমি কোথায় কী অবস্থায় আছে কিছুই বলা হয়নি প্রকল্প প্রস্তাবনায়।

প্রকল্পের আওতায় কার ওয়াশবাবদ ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে, যা প্রকল্প থেকে বাদ দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কারণ বিনা পয়সায় কোনো কার ওয়াশ কোথাও হয় না। এছাড়া প্রকল্পের যেসব যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করার কথা বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তার দাম কত তাও উল্লেখ নেই প্রস্তাবনায়।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এর আগেও দুই সিটিতে ওয়েস্ট বিন বসানো হয়েছিল। কিন্তু টেকসই হয়নি। এখন এ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ওয়েস্ট বিন বসানো হলে তা কীভাবে পরিচালিত হবে, বা টেকসই হবে তা বিস্তারিত জানাতে হবে। প্রকল্পের জনবল নিয়োগ বিষয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো সুপারিশ নেই। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএসসিসির মেয়র খোকনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের উপপ্রধান পরিমল চন্দ্র বসু বলেন, প্রকল্পটি বেশকিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। একই ধরনের দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তারপরও এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের কিছু বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করে নতুন প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে ডিএসসিসিকে। তারা নতুন করে প্রস্তাব পাঠালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত