ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সকালে ক্যাম্পাসের আলাদা দুটি জায়গায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রদলের সমাবেশের সামনে একটি এবং মধুর ক্যান্টিন এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই সপ্তাহে ৯টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এ ছাড়া উদ্ধার হয়েছে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল। তবে এসব বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের’ হামলার প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশের একপর্যায়ে পাশেই একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে আতঙ্কিত পথচারী ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন।
অন্যদিকে অপরাজেয় বাংলার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের কাছাকাছি সময়ে মধুর ক্যান্টিন এলাকায় আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ককটেল বিস্ফোরণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ককটেল বিস্ফোরণের আগের ঘটনাগুলোতে মামলাও হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান থাকবে।’
এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান অভিযোগ করেছেন, বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাই ককটেল বিস্ফোরণের এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কারণ, তাদের কমিটি হওয়ার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ শুরু হয়েছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর মধুর ক্যান্টিনের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেদিন ককটেলের স্পিন্টারের আঘাতে ক্যান্টিনের কর্মচারী হৃদয় আহত হন। তারও আগে ২৯ ডিসেম্বর মধুর ক্যান্টিনের সামনে সকালে তিনটি আর সন্ধ্যায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ছাড়া ২৬ ডিসেম্বর একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
