সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আর বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষকদেরই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হবে। খুব শিগগিরই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে পিএসসির অধীনে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে
নন-ক্যাডারপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হয়। এতে করে সহকারী শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হতে পারেন না বলে শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নন-ক্যাডার থেকে আসা প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকদের মতো শিক্ষকতায় অভিজ্ঞ না হওয়ায় প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মনে করেন তারা। নন-ক্যাডার থেকে আশা প্রধান শিক্ষকদের বেশিরভাগই অন্য চাকরি নিয়ে চলে যান। ফলে সহকারী প্রধান শিক্ষকরা চলতি দায়িত্ব পালন করেন। এতে করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সবকিছু যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকেই পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সচিব আকরাম আল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে হলে এই পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। এ কারণেই আমরা এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। ইতিমধ্যে পিএসসিকেও আমরা চিঠি দিয়ে নন-ক্যাডার থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ না দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছি। পিএসসি থেকে এখনো পর্যন্ত আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়ানি। তবে আশা করি শিগগিরই তাদের কাছ থেকে একটি আশানুরূপ ফল পাব।’ সচিব বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে যারা বর্তমানে চলতি দায়িত্ব পালন করছে তারাই প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী হবেন।’
