উপসচিবদের মতো গাড়ির সুবিধা চায় পুলিশও

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৪৭ এএম

উপসচিবদের মতোই সুদবিহীন লোন নিয়ে গাড়ি কেনার সুবিধা চান পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের দাবি পুলিশ সুপার থেকে ওপরের পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ গাড়ির কেনার আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি পুলিশের উচ্চপদস্থ পদের সংখ্যাও অনেক কম। আর এ কারণে পুলিশে পদোন্নতি হচ্ছে ধীরগতিতে। পুলিশ সুপার পদে ৮ ব্যাচের কর্মকর্তারাও বর্তমান এসপিদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পদ না থাকায় এসপিদের পদোন্নতির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, খুলনার পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে

উপস্থিত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আইজিপি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের পক্ষে চারজন কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশের দাবি-দাওয়া ও অন্যান্য বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তিনি অনেক দাবির সঙ্গেই একমত পোষণ করেন। বিশেষ করে প্রশাসনের উপসচিবদের মতোই সুদবিহীন গাড়ি কেনার ব্যাপারে তিনি ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ২ লাখ ১২ হাজার ৭২১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ৫ ভাগ ক্যাডার কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব ক্যাডার পদের কর্মকর্তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ৮২ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ পদগুলো পুলিশ সুপারের নিচে যেভাবে বেড়েছে সেভাবে উচ্চপদ বাড়েনি। বর্তমানে পুলিশ সুপারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। এডিশনাল এসপির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০। সেখান থেকে পুলিশ সুপার পদের সংখ্যা মাত্র ৩৬০ জন। অর্থাৎ সেখান থেকে চারজনের একজন পুলিশ সুপার পদে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে ৮ ব্যাচের কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করছেন এবং এডিশনাল পদেও ১৩ ব্যাচের কর্মকর্তারাও একযোগে কাজ করছেন। প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়Ñ ১৩ ব্যাচের এমন পুলিশ কর্মকর্তাও আছেন এডিশনাল এসপি। আবার চার বছর আগে যিনি চাকরিতে এসেছেন তিনিও এডিশনাল এসপি। পুলিশের ওপরের পদ সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে বেশিরভাগ পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার হিসেবেই থাকবেন অথবা অবসরে যাবেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ৮৪ সালের পুলিশ কর্মকর্তা এডিশনাল আইজিপি হচ্ছেন। আর অষ্টম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২৯ বছর চাকরি জীবন পার করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো এডিশনাল আইজিপি হতে পারেননি। তার পরের ব্যাচেরও একই অবস্থা। তাদের মধ্যে একজনও এডিশনাল আইজিপির পদে পদোন্নতি পাননি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি, ৬২৮টি নতুন পদ তৈরি করা যায় তাহলে এখন বিদ্যমান সমস্যা আছে তা অনেকটা সমাধান হবে বলে আশা করছি। তার মধ্যে ২১৫টি পদ তৈরি হলে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হবে। মহিলা পুলিশের নানা সমস্যা নিয়েও পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। পুলিশের জন্য আলাদা মেডিকেল কলেজ স্থাপন করারও দাবি করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ডিআইজি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য পৃথক মেডিকেল কোর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আছে। পুলিশে এখন মেধাবীরাই আসে, ব্যারিস্টারও আসে, ডাক্তারও আসে। আবার ইঞ্জিনিয়ারও আসে। এজন্য পুলিশের জন্য একটি পৃথক মেডিকেল কোর করা প্রয়োজন। পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসকরা আসতে চান না। কাজেই পুলিশের মধ্যে যে ডাক্তার আছে তাকে খুঁজেই সেখানে অনেক সময় দায়িত্ব দিতে হয়। পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পুলিশের জনবল বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পৃথক ইউনিট করে নিতে পারলে ভালো হওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ পৃথক ইউনিটের দাবি কিন্তু আপনারা করেননি আমি কিন্তু আপনাদের পক্ষ থেকেই দাবিটা করলাম। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, একজন উপসচিব সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা সরকার দিয়ে থাকে। তাদের মতোই পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে তার ওপরের কর্মকর্তারা যেন একইভাবে গাড়ি ক্রয় করতে পারেন সেই দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ^াস দিয়েছেন। তাছাড়া ইউনিটপ্রধানদের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করার দাবি করলেও বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো কিছু বলেননি।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট বিভিন্ন জায়গায় খোলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা ১০০ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি। কাজেই আমাদের শিল্প পুলিশকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে, সেটা আমরা করব। তিনি জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিকহারে পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ সদস্যদের নিয়োগের সময় শুধু নয়, পদোন্নতির সময়ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত