তুরাগতীরে তোড়জোড় বিশ্ব ইজতেমার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৪ এএম

টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১০ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের সবচেয়ে বড় জমায়েত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। স্বেচ্ছাশ্রমে ইজতেমা ময়দানে শামিয়ানা টানানো প্রায় শেষ। ময়দানের উত্তর পাশে বিদেশিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তাবলিগ জামাতের সাথিরা এসব কাজ করছেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। চলবে রবিবার পর্যন্ত। এতে ৬৪টি জেলা থেকে মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা যোগ দেবেন। রবিবার সকালে আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। চার দিন বিরতি দিয়ে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় পর্ব। এতে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীরা অংশ নেবেন।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ইজতেমা ময়দানে চটের শামিয়ানা। স্বেচ্ছাসেবীরা এসব খুঁটির ওপরে টানাচ্ছেন। একদল স্বেচ্ছাসবী লোহার খুঁটি ও পাইপ দিয়ে মূলমঞ্চ তৈরি করছেন। অন্যরা নামাজের লাইন তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদের ওপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সাতটি ভাসমান সেতু তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে তুরাগ তীরে টিন-চট দিয়ে বিশেষ কামরা করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরাও ময়দানে কাজ করছেন। উত্তরা থেকে আসা মুসল্লি আবদুর রহমান জানান, জান-মাল আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় ব্যয় করতে ২০ সাথি নিয়ে ইজতেমা মাঠে কাজ করতে এসেছেন তিনি।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ২০টি পথ তৈরি করা হয়েছে। এবার পুরো ইজতেমা ময়দান ৮৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এতে ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা খিত্তা অনুসারে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার জন্য ২৩টি এবং ময়মনসিংহ জেলার জন্য দুটি খিত্তা করা হয়েছে। বাকি সব জেলা একটি করে খিত্তায় থাকবে। পুরো ইজতেমা ময়দানে ৪৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। মুসল্লিদের

নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। থাকবে জেলা প্রশাসনের ৩০টির বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাঠে বোমা ডিসপোজাল টিম ছাড়াও বিজিবিকে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রাখা হবে।

এবার মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য ৮ হাজার ৩৩১টি টয়লেট ও ১৭টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। তিনটি গ্রিড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। থাকবে চারটি শক্তিশালী জেনারেটর। রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসল্লিদের জন্য ১০টি বিশেষ ট্রেন চালু হবে এবং সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। সেখানে তিন স্তরে টিকিট বিক্রি করা হবে। স্টেশনে মুসল্লিদের জন্য আলাদা অস্থায়ী বিশ্রামাগার ও ১০০টি টয়লেট তৈরি করা হবে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। যতটুকু বাদ আছে, ১০ জানুয়ারির আগেই শেষ হবে। বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে করা হচ্ছে। আশা করছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা শেষ হবে।’

১৯৬৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ইজতেমা হয়ে আসছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন দিন ধরে হতো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লি বাড়ায় ২০১০ সাল থেকে দুই পর্বে তিন দিন করে ইজতেমা হয়। এরই মধ্যে তাবলিগের আমির মাওলানা সা’দ কান্ধলভী ও মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীদের বিরোধের কারণে গত বছর থেকে দুই পক্ষ তিন দিন করে আলাদাভাবে ইজতেমা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত