প্রত্যেক অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিকে কাজে লাগানোর চিন্তা আ.লীগের

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৭ এএম

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে নগরীর কোন এলাকায় কোন অঞ্চলের মানুষ বেশি বসবাস করে সেই হিসাব কষছে আওয়ামী লীগ। এ হিসাব করতে পারলে প্রত্যেক অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ভোটের মাঠে কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির। পাশাপাশি সমাজে অবদান রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় খুব একটা নেইÑ এমন মানুষকেও নৌকার পক্ষে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় এমন একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। আঞ্চলিক হিসাব কষার কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান, ঢাকায় যারা বসবাস করেন তাদের মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা কম। ঢাকায় অস্থায়ী ভোটারই বেশি। এজন্য নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, খুলনাÑ এরকম অঞ্চল ধরে ধরে ঢাকার কোন কোন এলাকায় কোন কোন এলাকার মানুষ বেশি বসবাস করছে সেই হিসাব চূড়ান্ত করতে চায় আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকায় বসবাসকারী অঞ্চলভিত্তিক গণ্যমান্যদের সঙ্গে বৈঠকও করবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনে সুফল আসবে বলে মনে করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকায় সব ভোটারের দরজায় যাওয়া হলো আমাদের নির্বাচনের অন্যতম টার্গেট। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারদের দরজায় দরজায় যাওয়ার। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি টার্গেট হলো ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ, প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষকে

সেই অঞ্চলের মানুষ দিয়েই নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়াব। সভাপতিম-লীর ওই সদস্য আরও বলেন, ওইসব অঞ্চলের স্থানীয় সংসদ সদস্য তো নামবেনই; নামানো হবে ওই অঞ্চলের যেসব তারকা বা ব্যক্তিত্ব রয়েছেন তাদেরও।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সবরকম সহযোগিতা আওয়ামী লীগ করবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের ও সরকারের জনপ্রিয়তার মানদ- যাচাই করার ব্যাপারটি এবার ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনেকের ভেতরে সন্দেহ রয়েছেÑ সেটাও দূর করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হবে, এ চিন্তা নিয়ে আমরা মাঠে কাজও করছি। তাছাড়া প্রার্থী পছন্দ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। সম্পাদকম-লীরও ওই সদস্য আরও বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দল ও সরকারকে ডুবিয়ে যেকোনো মূল্যে জয় আসতেই হবেÑ তা ভাবা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন জমিয়ে তুলতে চাই আমরা। ভোটের প্রচারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার শীর্ষ স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এক সময়ে নির্বাচনের যে আমেজ ছিল তা আসলে হারিয়ে গেছে। ঢাকা সিটির নির্বাচন দিয়ে ভোটের আমেজ ফেরানোর এবং নির্বাচন জমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ।

দলটির সম্পাদকম-লীর আরেক সদস্য বলেন, এবার পাড়া-মহল্লায় মাইকিং হবে, গান-বাজনা হবে, বিভিন্ন মাঠে ডিজিটাল পর্দার মাধমে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ছবি পরিবেশন করা হবে। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে শ্রমজীবী মানুষদের চিত্ত-বিনোদন হবে। তারা চাঙ্গা হবে। সম্পাদকম-লীর ওই সদস্য বলেন, শিল্পীসমাজ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার ও শিক্ষকসমাজ সবাইকে মাঠে নামানো হবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানোর জন্য।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা সিটির ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি তালিকাও করা হয়েছে। দলের সভাপতিম-লীর এক সদস্য বলেন, প্রচারে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা লিফলেটের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি তুলে ধরবেন। পাশাপাশি ভোট চাইবেন নৌকার প্রার্থীর পক্ষে। তিনি বলেন, সিটি ভোটে উৎসব ফিরিয়ে আনতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রচারে কিছু ‘ভিন্ন মানুষকে’ যুক্ত করা হবে ভিন্ন কৌশলে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আমির হোসেন আমু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো সব ভোটারের দরজায় যাওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত