জেএনইউতে হামলা

আহতদের বিরুদ্ধেই দিল্লি পুলিশের মামলা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৮ এএম

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের নেত্রীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে তারা সবাই গত রবিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরিহিত একদল

দুষ্কৃতকারীর হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই হামলার জন্য পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে একদল মুখোশধারী বিভিন্ন হোস্টেলে ঢুকে লাঠি, রড, হকিস্টিক আর হাতুড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর, হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তাতে আহত হন ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষসহ প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী। ওই হামলা নিয়ে গোটা দেশে সমালোচনা, উত্তেজনা ও বিক্ষোভ চলছে।

হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জোট শরিক কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল আরএসএস-এর ছাত্র শাখা এবিভিপিকে। কিন্তু অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার না করে উল্টো ওইদিনের হামলায় আহতদের নামে তার আগের দিন শনিবার ক্যাম্পাসের একটি সার্ভার রুম ভাঙচুরের অভিযোগ (এফআইআর) দাখিল করেছে দিল্লি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তাদের মধ্যে ২০ জনের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ দাখিল করল।

এফআইআরে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করার সময় সার্ভার রুমে ভাঙচুর করেন বামপন্থি সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ বলছে, গত ৩ ও ৪ জানুয়ারি এই এফআইআর দায়ের হয়। পরে তাতে ঐশী ঘোষসহ আরও ৮ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

জেএনইউর সাবেক শিক্ষার্থী ও বামপন্থি নেত্রী কবিতা কৃষ্ণাণ ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে এই মামলাকে জঘন্য বলে অভিহিত করেছেন। উপাচার্যের বরখাস্তের দাবি করা জেএনইউ শিক্ষক সমিতিও আহত শিক্ষার্থীদের নামে দিল্লি পুলিশের দাখিল করা এই এফআইআর-এর পেছনে যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কবিতা কৃষ্ণাণ আলজাজিরাকে বলেন, ‘ঐশী ঘোষ নিজেই হামলাকারীদের হত্যাচেষ্টার শিকার এবং আপনি হামলার শিকার একজনের বিরুদ্ধেই এফআইআর করছেন। দিল্লি পুলিশের উপস্থিতিতে আক্রমণকারীরা যখন ব্যাপক ভাঙচুর-মারধর করল, ক্যাম্পাস থেকে বেরও হয়ে গেল অথচ পুলিশ তো তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।’

জেএইউ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সুরজিত মজুমদার আলজাজিরাকে বলেন, ‘এটি খুব স্পষ্ট যে এর মাধ্যমে তারা (দিল্লি পুলিশ) শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার সময় কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে তাদের দায়বদ্ধতা এড়াতে চাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না তারা কীসের ভিত্তিতে আহত এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করল।’

২০ বছরের পরিচিত ক্যাম্পাসে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন দিল্লির জেএনইউর অধ্যাপক সুচরিতা সেন। হামলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আহত হয়েছেন তিনিও। গত সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান সেন্টার ফর স্টাডিজ অফ রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক সুচরিতা। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে হঠাৎই হিংসা ছড়িয়ে পড়ল। বেশিরভাগই মুখ ঢাকা ছিল, লাঠিসোঁটা ছিল ওদের হাতে। ওরা পাথরও ছুড়ছিল আমাদের লক্ষ্য করে। একটা পাথর আমার কাঁধে এসে লাগে খুব জোরে। তারপরে একটা আধলা ইট ছুড়ে মারে আমার মাথায়।’

হামলার দায় যখন বিজেপির ছাত্র সংগঠনের দিকে দেওয়া হচ্ছিল তখনই হামলার দায় স্বীকার করল ‘হিন্দু রক্ষা দল’ নামে একটি সংগঠন। পিঙ্কি চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি ওই সংগঠনের নেতা হিসেবে দাবি করে হামলার ‘সম্পূর্ণ দায়’ নিয়েছেন। দিল্লি পুলিশ অবশ্য ওই সংগঠনের দায় নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বিজেপি-এবিভিপির অস্বস্তি কাটাতেই ওই সংগঠন হামলার দায় নিয়েছে। হিন্দু রক্ষা দলের পক্ষ থেকে পিঙ্কি চৌধুরীর একটি ভিডিও টুইটারে শেয়ার করা হয়েছে। যদিও হিন্দু রক্ষা দলের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও পোস্ট হয়নি। শিবাঙ্গী ঠাকুর নামে একজন ওই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওতে পিঙ্কি চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠেছে জেএনইউ। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা এই হামলার সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি এবং বলতে চাই যে, হামলাকারীরা আমাদের সংগঠনের সদস্য ছিলেন।’

এদিকে অর্থনীতিতে মন্দা, কর্মসংস্থানের বেহাল দশা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধের প্রতিবাদ এবং সেই সঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জির (এনপিআর) বিরোধিতায় আজ বুধবার ভারত জুড়ে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো।

একই দিনে গ্রামীণ ভারত ধর্মঘট ডেকেছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনগুলো। সিপিএম, কংগ্রেস-সহ ২০টি দল এ রাজ্যে ওই ধর্মঘটকে সমর্থন করছে। ধর্মঘটের ইস্যুগুলোকে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি সমর্থন করলেও, ধর্মঘট কোনো মতেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত