রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) অধীনে থাকা ২১টি পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের তালিকা দিয়ে তার মালিকানা পেতে চিঠি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সদ্য পদত্যাগ করা সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে এ চিঠি দেন।
চিঠিতে তিনি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯- এর ব্যাখ্যা তুলে ধরে মালিকানা দিতে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। আইন অনুসারে সিটি করপোরেশন এলাকার মাঠ ও পার্কের মালিকানা ডিএনসিসি’র হওয়ার কথা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর আতিকুল ইসলাম পূর্তমন্ত্রীকে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আরও পার্ক এবং খেলার মাঠ দরকার। পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার জন্য ডিএনসিসি বিদ্যমান পার্ক এবং মাঠের উন্নয়ন, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম করছে। একই কার্যক্রমের আওতায় আনতে রাজউকের মালিকাধীন পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্তস্থান ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন)-২০০৯ এর তৃতীয় তফসিলের ২৪ অনুচ্ছেদ এবং সপ্তম তফসিলের ২২ অনুচ্ছেদ অনুসারে পার্ক, মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন আতিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে আতিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন অনুসারে আগে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক’ ও ‘বনানী খেলার মাঠ’ রাজউক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তর করেছে। এখন ২১টি স্থাপনার মালিকানা হস্তান্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসার পর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করে এগুলো সবার ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।’
চিঠিতে উল্লিখিত ২১টি পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান হলো- সাড়ে ৯ একরের গুলশান-২ এর হর্টিকালচার পার্ক, ৩ দশমিক ২৭ একরের উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, ২ দশমিক ৯০ একরের উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের মাঠ, ২ দশমিক ০৬৬ একরের উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের পার্ক, ২ দশমিক ৮৯ একরের উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠ, ৩ দশমিক ৬২ একরের উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, ২ দশমিক ০৫১ একরের উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠ, ২ দশমিক ১৩ একরের নিকুঞ্জ ২ এর পার্ক, ২ দশমিক ৪৪ একরের শ্যামলী ক্লাব মাঠ, ইন্দিরা রোডের মাঠ, উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের পার্ক, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের পার্ক, উত্তরা ১২ সেক্টরের পার্ক, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মহাখালী-গুলশান ও বনানী ২ নম্বর সড়কের পশ্চিম পাশের মাঠ, বনানী ১৩ নম্বর রোডের খেলার মাঠ, বনানী ৬ নম্বর রোডের উদ্ভিদ উদ্যান, গুলশান এলাকার পাকিস্তান দূতাবাসের পশ্চিম পাশের পার্ক, বারিধারা জে-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের পাশে উন্মুক্ত স্থান, বারিধারা জে-ব্লকের ৯ নম্বর রোডের পাশে উন্মুক্ত জায়গা, বারিধারা জে-ব্লকের ১২ নম্বর রোডের পাশে উন্মুক্ত স্থান ও একই রোডের পাশে আরেকটি উন্মুক্ত স্থান।
