প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কোনো সেতুর গোড়া বা আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছেন পত্রিকার প্রতিবেদনে মাঝে মাঝে দেখা যায় পুলের খুঁটির নিচের বালু উঠিয়ে ফেলেন ব্যবসায়ীরা। এগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সেতুর খুঁটির নিচে নয়, খুঁটির আশপাশে কোনো বালু উত্তোলন করা যাবে না। কোনো বালুমহালও করা যাবে না। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
তিনি জানান, পুরনো সেতুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নতুন ব্রিজ বানাও। আগের লোহার ব্রিজ পড়ে থাকে বছরের পর বছর। ওগুলো কাজে লাগাও অথবা বিক্রি করে দাও। যাই দাম পাওয়া যায়, অকশন আইন অনুযায়ী বিক্রি করে দাও। অথবা ভালো থাকলে সরিয়ে নিয়ে অন্য জায়গায় লাগাও। পড়ে থাকবে কেন? এ সময় যেখানে নতুন সেতু হবে, সেখানে নদী-খাল যেন বহমান থাকে সে নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, নদী-খাল খনন যেন আরও বেশি করে করা হয়। নদীর মাঝামাঝি এলাকাতে যেন খনন করা হয়। যাতে করে যেন পাড় ভেঙে না যায়। সেই সঙ্গে বেশি করে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তার নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের আরও বেশি করে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করতে হবে। আরও বেশি করে নদী-নালার পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করতে হবে। আমরা যেন ভূগর্ভস্থ পানি কম উঠাই। কারণ, অনেক বিশেষজ্ঞের ভীতি আছে যে, পানির স্তর সম্ভবত নেমে যেতে পারে।
সূত্র জানায়, একনেক সভায় ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ উপবৃত্তি’ নামে ৯৫৭ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক্ষেত্রে রাজস্ব খাত থেকে একটি সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প আকারে নয়, রাজস্ব খাত থেকেই শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিতে হবে।
