সরকারের জবাবদিহিতা না থাকায় দেশে ধর্ষণ-নির্যাতনের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অন্য কোনো দেশে একটি ধর্ষণ হলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সরকারকে প্রতি পদে পদে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু আজ বাংলাদেশে সেই জবাবদিহিতা অনুপস্থিত। আর এটাই হচ্ছে ধর্ষণের মূল কারণ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’-এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘ধর্ষণ প্রতিনিয়ত চলছে বাংলাদেশে। শিশু থেকে শুরু করে যুবতী, বিবাহিত মহিলা এমনকি বৃদ্ধারা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। এসব ধর্ষণের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। আর সেটা হচ্ছে সরকারের জবাবদিহিতা না থাকা। কোনো ধরনের জবাবদিহিতা আজকে সরকারের নেই। সরকার জবাবদিহিতার ধার ধারছে না।’
তিনি বলেন, ‘যখন আপনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন, তখনই জবাবদিহিতার প্রশ্ন আসে। আজকে যারা ক্ষমতা দখল করে আছে, এ অনির্বাচিত সরকারের জনগণের প্রতি কোনো জবাবদিহিতা নেই। সুতরাং যেখানে জবাবদিহিতার প্রশ্ন থাকবে না, সেখানে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ চলবে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কাছে মানবাধিকার বলে কিছু নেই। পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। বাংলাদেশকে আজকে বিশ্বের সামনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
ধর্ষণের অসংখ্য নজির সৃষ্টি করেছে সরকার : ইশরাক হোসেন : আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেছেন, এ সরকার ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরেই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে চার সন্তানের জননী গৃহবধূকে ধর্ষণের মাধ্যমে তাদের যাত্রা শুরু করে। এরপর সারা দেশেই একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সরকার কোনো বিচার করছে না। একই সঙ্গে সারা দেশে ধর্ষণের অসংখ্য নজিরও সৃষ্টি করেছে এ সরকার। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বিধায় এ সরকারের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন মামুন প্রমুখ।
কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে : সেলিমা রহমান : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সেলিমা রহমান বলেন, আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কাউন্সিলর এবং নারী কাউন্সিলরদের (সংরক্ষিত আসন) মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতারা নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে, বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার আসলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন করবে না। তারা আবারও সিটি করপোরেশন দখলে নিতে চাচ্ছে।
