ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সামান্য নড়াচড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার উসকে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি আরামকোতে রকেট হামলা, সমুদ্রে সৌদির তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বোমা হামলার প্রভাব পড়ে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা আড়ালে পড়ে গেছে গত ৩ জানুয়ারি ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সুলেইমানিকে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায়। এ খবর জানামাত্র আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় ৪ শতাংশ। গতকাল ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া মিসাইল আঘাত হানার পর জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর আরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। লন্ডনে প্রতি লিটার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ ডলার। যদিও ইরানের এই হামলায় ইরাকের তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা ইরানের মিসাইল হামলার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরবসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর শেয়ারবাজারে পতন শুরু হয়েছে। সূচকের পতন হয়েছে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জেরও। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের শেয়ারবাজার ওঠানামা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
দিনের শুরুতে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক দশমিক ৬ শতাংশ কমে এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ হারায় দশমিক ৫ শতাংশ। চীনের সাংহাই কম্পোজিট ইনডেক্স ১ দশমিক ২ শতাংশ ও ভারতের সেনসেক্স দশমিক ২ শতাংশ হারায়। তাইওয়ান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পুঁজিবাজারেও ইরানের মিসাইল হামলার প্রভাব পড়ে।
তবে সোনার দাম গত সাত বছরে শীর্ষে উঠে এসেছে ইরানের জেনারেল হত্যা ও তার পাল্টা আঘাতের ঘটনায়। আর মুদ্রাবাজারে ডলারের দরে তেমন হেরফের হয়নি, সামান্য কমেছে ইউরোর দাম।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে গত রাতে ইরান মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এশিয়ার বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৯ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ওয়ার্ল্ড। ইরানের মিসাইল হামলার পর নিউ ইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে ইউএস ক্রুডের দাম ৫৫ সেন্ট বেড়ে যায়।
হামলার পর নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ নামে পরিচিত সোনা ও জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দরও কমতে থাকে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের হ্যাংছেং কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্বে জ্বালানি তেল পরিবহনের পঞ্চম বৃহৎ রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। সুলেইমানির হত্যা ও তার জবাবে ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের আশঙ্কা থেকে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় সরবরাহকারী সৌদি আরব, ইরাক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে থাকে।
জ্বালানি তেলের দর বাড়লে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতি চীন ও ভারত সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ে। কারণ, এ দেশ দুটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
