মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি
হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিলে বাংলাদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক সিনিয়র মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে জানান, বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য ব্যাংকার’ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বৈঠকে এক মন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এক বছরেই যে ‘খেল’ দেখালেন, আগামী চার বছর তো পড়েই রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রীর এ অর্জন এক বছরের নয়; এটি কারও ব্যক্তিগত অর্জনও নয়। এ অর্জন গত ১১ বছরের অর্জন। এ অর্জনের দাবিদার আগের অর্থমন্ত্রীসহ সচিবরাও। এর সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তাদের সবাই এ সাফল্যের দাবিদার। আগের অর্থমন্ত্রীর প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত।
ভোটার তালিকা হালনাগাদে দুই মাস সময় পাবে ইসি
ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে এখন থেকে প্রতি বছর দুই মাস করে সময় পাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ এ হালনাগাদ চলবে। হালনাগাদ শেষে ২ মার্চ পালিত হবে জাতীয় ভোটার দিবস। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বৈঠক সম্পর্কে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন, ২০১৯ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর আগে প্রতি বছর ২ থেকে ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলত। ২৯ দিনে এ কাজ শেষ করা কষ্টসাধ্য ছিল। ফলে সময় বাড়ানো হয়। এখন থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য প্রতি বছর দুই মাস করে সময় পাবে নির্বাচন কমিশন।
কৃষিযন্ত্র কিনতে ঋণ সুবিধা পাবেন কৃষকরা
কৃষিযন্ত্র কিনতে কৃষকদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিধান রেখে ‘জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০২০’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা অনুমোদিত হওয়ায় দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। এ নীতিমালার আওতায় কৃষকরা সাশ্রয় মূল্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষিযন্ত্র কেনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সহজশর্তে ও ন্যূনতম সুদে বা সুদবিহীন ঋণ সুবিধা পাবেন। সমবায় পদ্ধতিতে কেনা ও ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয় নীতিমালায়। প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে হয়তো ২০ লাখ টাকা দামের যন্ত্র কেনা সম্ভব হবে না। তারা যদি সমবায় করে কিনতে পারেন, তবে তাদের সুবিধা হবে। মন্ত্রিসভা সমবায়ের ভিত্তিতে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থার বিষয়টি যুক্ত করতে বলেছে। কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে ফসল রোপণ, কর্তন, মাড়াই ও ঝাড়াইয়ে শ্রমিক অনেক কম লাগে। ফলে কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতা মোকাবিলা করে কৃষি উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাবে, ফসলের অপচয় রোধ হবে। শ্রমিক খরচ কম হওয়ার ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমে যাবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং দেশের যুবসমাজ কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ হবেন। অন্যপক্ষে বাণিজ্যিক কৃষি ব্যবস্থারও প্রসার হবে।
বীমা দিবস ১ মার্চ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা কোম্পানির চাকরিতে যোগদানের তারিখ ১ মার্চকে ‘বীমা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। দিবসটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘খ’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বীমা দেশের একটি ‘সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ’ আর্থিক খাত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর দেশীয় বীমা শিল্প সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ন্যাশনালাইজেশন অর্ডার ১৯৭২, দ্য ইন্স্যুরেন্স কো-অপারেশন অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর মতো বীমা সংশ্লিষ্ট মৌলিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
প্রতি বছর ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিশেষ অনুরোধ করেছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাব ছিল ২ বা ৩ মার্চ বীমা দিবস করার, কিন্তু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেছিলেন। যার সঙ্গে একটা ঐতিহাসিক দিনের সংযোগ আছে। ১ মার্চ অন্য কোনো দিবস থাকলে সেটি শিফট করে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে এবং তা করেও দেওয়া হয়েছে। এতদিন ১ মার্চ ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হলেও মন্ত্রিসভা তা ২ মার্চে স্থানান্তর করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বীমা দিবসকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করার প্রস্তাব করলেও মন্ত্রিসভা তাতে সায় দেয়নি বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় দিবসগুলো ‘ক’ শ্রেণির দিবস। আর কর্মসূচিভিত্তিক ও প্রচারণামূলক বিষয়গুলো ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত। সে কারণে বীমা দিবসকেও ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
