বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী কমিশনার কামরুন্নাহার রিনা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের বোম্বে হসপিটাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্রেইন টিউমারে ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। তার পরিবারে ৮ বছরের ছেলে আদৃত ও স্বামী প্রবীর ভাদুরী রয়েছেন।
কামরুন্নাহারের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে ছিলেন। তিনি পাংশা উপজেলার স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) অর্জন করেন।
লেখাপড়া শেষে ২১ আগস্ট ২০০৬ সালে তিনি ২৫তম বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেন।
তার ব্যাচমেট ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোখসানা রহমান জানান, চাকরিতে যোগদানের কিছুদিন পর ২০০৭ সালেই ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে কামরুন্নাহারের। তারপর থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনবার অস্ত্রোপচারও করান।
সর্বশেষ গত কয়েক মাস আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রোটন থেরাপি নিতে ভারতে যান। ৬ জানুয়ারি সেখানে চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার করেন। অপারেশন সফল না হওয়ায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও কর্মক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। সব সময় সহকর্মী ও অধীনস্থদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করায় কামরুন্নাহারা সকলের কাছে প্রিয় মানুষ ছিলেন। তার চলে যাওয়া সকলকে ব্যথিত করেছে।
রোখসানা আরও জানান, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) কামরুন্নাহারের মরদেহ বাংলাদেশে আসবে। এরপর প্রথমে তাকে তার কর্মস্থল ফরিদপুরে আনা হবে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জানাজা শেষে তাকে তার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানো হয়।
