যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের দাবি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিধ্বস্ত ইউক্রেনের উড়োজাহাজ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৫ এএম

তেহরানে ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি ইরানের ভুলক্রমে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। তবে এ খবর উড়িয়ে দিয়ে ইরান বলেছে, উড়োজাহাজটির পাইলট বিমানবন্দরে ফেরার চেষ্টা করেছিল।

গত বুধবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি। ওই ঘটনায় নিহত হন ১৭৬ আরোহীর সবাই। ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের বিশ্বাস ইউক্রেনের উড়োজাহাজটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, একটি উপগ্রহ দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ‘ব্লিপ’ শনাক্ত করেছে এবং এরপর বিস্ফোরণের আরেকটি ‘ব্লিপ’ এসেছে।

নিউজউইক পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তার পাশাপাশি এক ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, তারা বিশ্বাস করে যে ইউক্রেনের উড়োজাহাজটি রাশিয়ার তৈরি টর ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়েছিল।

তবে ইরানের তদন্ত কমিটি বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছু সময় পরই তাতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। সেই অবস্থায় পাইলট উড়োজাহাজটি ফের বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। 

গতকাল ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষদের ওলেকসয় ডেনিলভ বলেছেন, কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় আসেনি। তবে তারা চান দুর্ঘটনাস্থলের বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে একটা তুলনামূলক পরীক্ষা চালাতে। তবে তার এই দাবির বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পক্ষ থেকে একে দুর্ঘটনা হিসেবেই দাবি করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলছে, কিছু ত্রুটির কারণেই উড়োজাহাজটি এক ঘণ্টার মতো বিলম্বে উড্ডয়ন করে।

তেহরানের ইউক্রেন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও প্রথমে এ ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ কথা অস্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে পরে দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। নতুন বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনই কিছু বলার সময় আসেনি। 

ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইগর সসনোভস্কিও একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তার দাবি, ক্রুদের ভুল হওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে তদন্তের পরই সঠিক কারণ জানা যাবে। 

আইআরএনএ’র ফেইসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সংবাদ সংস্থাটির দাবি, কারিগরি সমস্যার কারণে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। আইআরএনএ’র খবরে বলা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উড়োজাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি উড্ডয়ন করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে। উড্ডয়নের পরপরই নিয়ন্ত্রণ হারান পাইলট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত