সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা

আবেদ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৬ এএম

শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাইকে একসময় চলে যেতে হবে। কিন্তু অকাল মৃত্যু সব সময় সবাইকে কষ্ট দেয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-৩ আসনের সাংসদ ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। শোক প্রস্তাবে সাংসদ ইউনুস আলী সরকার ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) মো. আবদুল কাদের, সাবেক সাংসদ ইকবাল হোসেন, এবাদত হোসেন ম-ল ও গুলজার

আহমদ। এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ

জয়নুল আবেদীন, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা পদার্থবিজ্ঞানী অজয় রায়, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ সেলিম, ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু, সুরকার-সংগীত পরিচালক বাসুদেব ঘোষ, বীরাঙ্গনা আফিয়া খাতুন খঞ্জনি, বীরাঙ্গনা রাহেলা বেগম এবং সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামানের মাতা ফাতেমা খানমের নাম রয়েছে।

ইউনুস আলীর বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইউনুস আলী সরকার ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিতেন, এমনকি ওষুধও কিনে দিতেন। এমন মানবপ্রেমী মানুষটি এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন ভাবতে পারি না।

যুব মহিলা লীগের সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পির স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাপ্পি ভালো পার্লামেন্টারিয়ান ছিল। চমৎকার বক্তৃতা দিত। ভবিষ্যতে তার উজ্জ্বল নেতৃত্বের সম্ভাবনা ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা মোকাবিলায় বাপ্পি সব সময় সক্রিয় ছিল। তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী তার সামরিক সচিব মিয়া জয়নুল আবেদীন ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলীকে স্মরণ করে বলেন, কওমি মাদ্রাসার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে দুজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুর আগে ফজলে হাসান আবেদ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি আর বেশিদিন হয়তো বাঁচবেন না। সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি অমায়িক লোক ছিলেন। আমি প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তাকে অনুরোধ করে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করিয়েছিলাম। তিনি বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

সংসদে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গা অংশ নেন। আলোচনা শেষে সংসদে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত