মূল লড়াই ৪ জনেই

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৩ এএম

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। বারবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। তাকেসহ দক্ষিণে মেয়র পদের লড়াইয়ে থাকলেন সাতজন। আর উত্তরের মেয়র পদে ছয়জন। সব মিলে দুই সিটিতে ১৩ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিযোগিতায় থাকলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মেয়র প্রার্থী ১৩ জন থাকলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত চার প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন উত্তরের মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম ও  বিএনপির তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেন।

গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঢাকা উত্তরের ১২৩ কাউন্সিলর প্রার্থী (সংরক্ষিত ১২ জনসহ) তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। আর দক্ষিণের ১৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী (সংরক্ষিত ২০ জনসহ) তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। সব মিলে দুই সিটির ২৬৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। এখন দুই সিটিতে মোট ৭৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী (সংরক্ষিত ১৫৯ জনসহ) ১২৯টি ওয়ার্ডের লড়াইয়ে রইলেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য সরকার-সমর্থকরা বিএনপির  প্রার্থীদের চাপ দিয়েছেন। আজ শুক্রবার দুই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবেন দুই সিটির রিটার্নিং

কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে আজ শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রচার শুরুর আগেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচনী প্রচারে সাংসদদের সম্পৃক্ত থাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আনঅফিশিয়ালী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাসহ দুই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে (ইউও) নোট দিয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে সংরক্ষিত  কাউন্সিলর পদে ১২ জন ও সাধারণ ওয়ার্ডে ১১১ জনসহ মোট ১২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। মেয়র পদে কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে এই সিটিতে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫১ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৭৭ জনসহ তিন পদে ৩৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রইলেন।

আবুল কাসেম বলেন, যারা বৈধ হলেন আগামীকাল (আজ) তাদের প্রতীক বরাদ্দ করব। এরপর থেকে তারা প্রচার চালাতে পারবেন। তারা যেন আচরণবিধি মেনে চলেন। যদি কেউ মেনে না চলেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। নির্বাচন যে উৎসব, সেটি যেন সংঘর্ষে রূপ না নেয় সে জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।  উত্তর সিটিতে মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, পিডিপির শাহীন খান, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক।

উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৭৪ জন ও ১৮টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ কাউন্সিলর ও দুজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, মোট ১৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচনের মোট ৭ জন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৬০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১২৫ জন প্রত্যাহার করে নেন। সংরক্ষিত নারী আসনে ১০২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ নিয়ে ডিএসসিসির নির্বাচনে ৩ পদে মোট ৪২৪ জন প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে ৭ জন চূড়ান্ত প্রার্থী থাকছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) বাহরানে সুলতান বাহার, গণফ্রন্টের আবদুস সামাদ সুজন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতার উজ জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত