বস্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী

পোশাকের দাম নিয়ে দরকষাকষি করা উচিত

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:১৮ এএম

ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের আরেকটু দরকষাকষি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০১৯ ও বস্ত্রমেলার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বস্ত্র খাতের বিশ্বায়ন, টেকসই উন্নয়ন।’ এ সময় তিনি রপ্তানিকারকদের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং ফ্যাশন ও নকশার চাহিদা জানতে নিজস্ব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। অনুষ্ঠানে বস্ত্র খাতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৯টি সংস্থা এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করেন। আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বস্ত্রমেলা চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তৈরি এসব পোশাক খুব অল্প টাকায় আমরা বিক্রি করি। এক্ষেত্রে আমাদের পণ্য ক্রেতারা এক ডলার করেও যদি দাম বাড়াত তাহলে মনে হয় এই খাতটাকে আমরা আরও উন্নত করতে পরতাম। প্রতিযোগিতার ব্যাপার থাকে বলে... আমি জানি না, আমাদের এই পণ্য যারা রপ্তানি করেন, তারা এই বার্গেনিংটা করেন কি না। কিন্তু আমার মনে হয় একটু করা উচিত। বায়ারদের বলা উচিত বা ওই দেশগুলোকে বলা উচিত। একই সঙ্গে, আমাদের বিদ্যমান পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু অ্যাড’ এবং দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতে নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাজারে পণ্যের উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার ব্যাপারে আমাদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। (কারণ) পোশাকের ক্ষেত্রে নকশা, রংসহ সমস্ত কিছু (চাহিদার ভিত্তিতে) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সর্বদা পরিবর্তিত হয়। যদিও পোশাকের নকশা ও রং ক্রেতাদের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল, তারপরও নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বাজারে পোশাক আইটেমের ফ্যাশন ও নকশার চাহিদা জানতে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমাদের উৎপাদনকে বৈচিত্র্যময় করা অপরিহার্য। আমি আশা করি, আপনারা এ–জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দেব।’

রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সফরে গেলে সেই দেশগুলোর সরকার প্রধানদের কাছে তিনি নিজে বিষয়টি তুলে ধরেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একা তুলে ধরলে হবে না। আপনারা যারা ব্যবসা করেন, তাদেরও বোধহয় একটু উদ্যোগ নিতে হবে। এখন বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান অধিকার করে আছে। বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা বিশ্ববাজারের মাত্র ৬.৪০ শতাংশ। তাই আমাদের এই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

অর্থনৈতিক জোনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের এটাই লক্ষ্য, আমাদের দেশীয় পণ্য যা আমরা উৎপাদন করি, সেখান থেকে কী কী কাঁচামাল ব্যবহার করে আমরা পণ্য উৎপাদন করতে পারি এবং বাজারজাত করতে পারি- সেইভাবে আমাদের কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বাংলাদেশ হবে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ, উন্নত দেশ, সমৃদ্ধিশালী দেশ এবং আমরা তা করতে পারব। এই বিশ্বাস আমার আছে। কাজেই সেই ক্ষেত্রে আমাদের শিল্পায়ন, শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং সর্বক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি করতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই সবাই কাজ করবেন। এটাই আমি আশা করি। আমার দেশের সাধারণ নাগরিক কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ- তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। তারাও উন্নত জীবন পাবে। তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে উন্নত জীবনযাপন করবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত