জামালপুরে বাজারের খাজনার টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নুরুল ইসলাম (৬৫) নামে এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে লাভলু মিয়া ও বেলাল হোসেন নামে দুই ইজারাদার পলাতক।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মাজেদুর রহমান জানান, জামালপুর সদরের মেষ্টা ইউনিয়নের চর মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম ভাটারা বাজারে চার মণ আলু বিক্রি করতে আসেন বাজারে। এ সময় ইজারাদার লাভলু মিয়া ও বেলাল হোসেন প্রতি মণ আলুর জন্য ২০ টাকা খাজনা দাবি করেন। কৃষক নুরুল ইসলাম প্রতি মণ আলুতে ১০ টাকার বেশি খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লাভলু ও বেলাল কৃষক নুরুল ইসলামকে একটি দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দিলে তিনি মাথায় আঘাত পান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলা ক্যাট কোম্পানির প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জিসানের পেট কাটা লাশ উদ্ধার করা হযেছে। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের তিন দিন পর সাতক্ষীরা শ্যামনগরে কুলখালী খালপাড় থেকে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রীর বাবা। রাজধানীর দারুস সালামে এক ব্যক্তিকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। কেরানীগঞ্জের পশ্চিম আগানগর এলাকা থেকে গতকাল সকালে সিহাব নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলা ক্যাট কোম্পানির প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জিসানের পেট কাটা লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে ডুবুরি দল। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন জিসানের সহকর্মী প্রকৌশলী লিখন সরকার। তবে এ ঘটনাকে হত্যাকা- বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন নিহত জিসানের স্বজনরা।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মো. কাজল মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, নিখোঁজ দুই প্রকৌশলীর সন্ধানে গতকাল সকাল থেকেই বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ডুবুরি দল। একপর্যায়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে ডুবন্ত অবস্থায় জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে জিসানের লাশ শনাক্ত করেন। তাদের দাবি, নদীতে ডুবে জিসানের মৃত্যু হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে।
জিসানের বড় ভাই মো. শোয়েব আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ভাইয়ের লাশ আমরা অক্ষত পাইনি। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে, পেট কাটা রয়েছে এবং সেখান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ঘটনার দুদিন পর খবর পেয়ে আমরা গত তিন দিন ধরে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছি। একজনের লাশ ইতিমধ্যে উদ্ধার করেছি। নিখোঁজ অন্যজনকেও আমরা উদ্ধার না করা পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখব।
গত ৫ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রাজাপুর এলাকায় বুড়িগঙ্গা এন্টারপ্রাইজের ভেকু মেরামতের কাজ শেষ করে ফেরার পথে নিখোঁজ হন বাংলা ক্যাট কোম্পানির দুই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান জিসান ও লিখন সরকার। দুজনই পরিবার নিয়ে রাজধানীর আশুলিয়া এলাকায় একই মালিকের বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। জিসানের তিন বছরের ও তিন মাসের দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিখোঁজ কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার : নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাতক্ষীরা শ্যামনগরে কুলখালী খালপাড় থেকে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মরিয়ম খাতুন ময়না (২২)। গতকাল সকালে উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়না ভুরুলিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে ও শ্যামনগর মহসিন কলেজের ছাত্রী। বাবার দাবি, ময়নাকে হত্যার পর খালে ফেলে রাখা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ শ্যামনগর সদরের কুলখালী খালের পশ্চিমপাড় থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। তিন দিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো ছিল। পরনে ছিল নীল জিন্সের প্যান্ট ও লাল-কালো সোয়েটার ও গলায় সাদা ওড়না।
রাজধানীতে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে হত্যা : রাজধানীর দারুস সালামে এক ব্যক্তিকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে খুন করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ২টার দিকে জহুরাবাদ বস্তি এলাকার মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত আনোয়ারের ভাই চাঁন মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি এলাকায়। গত ১৫ বছর ধরে পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন আনোয়ার। তিনি কোনো কাজকর্ম করতেন না। মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। তাকে কে বা কারা হত্যা করল কিছুই বুঝতে পারছেন না।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার উদ্ধার করা হয়েছে, যেটি আনোয়ারের গলায় পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বাড়িওয়ালা মোহাম্মদ আলীসহ একাধিক প্রতিবেশীকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
দারুস সালাম থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক বা একাধিক ব্যক্তি আনোয়ারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেলেও সঠিক কারণ জানতে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আনোয়ারের বড় ভাই চাঁন মিয়া একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কেরানীগঞ্জে কিশোরকে হত্যার অভিযোগ : ঢাকার কেরানীগঞ্জের পশ্চিম আগানগর এলাকা থেকে গতকাল সকালে সিহাব নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। সিহাব ওই এলাকার সাহেদ আলীর ছেলে।
সিহাবের মা সকিনা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নাইম নামে সিহাবের এক বন্ধু বাসায় এসে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সে আর বাসায় ফেরেনি। গতকাল সকালে হাজী মার্কেট এলাকায় একজনের মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সিহাবের লাশ শনাক্ত করি। কেউ হয়তো তাকে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, পশ্চিম আগানগর এলাকায় মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের কোঠার নিচ থেকে হাত ভাঙা ও মুখ থেঁতলানো অবস্থায় সিহাবের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই ভবনের ছাদে বসে নেশা করত বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
