রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় দ্রুতগতির এক বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী ফারজানা (১০) নামে এক শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই শিশুটির বাবা মিজানুর রহমান। তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে তেজগাঁও থানার সামনে ঘটা এই দুর্ঘটনার পরপরই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন দেওয়ান পরিবহন নামের ওই বাসটির চালক সোহেল রানা।
তেজগাঁও থানার এসআই আলী হোসেন বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির বাবা আহত হলেও শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় দায়ী বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করা চালক সোহেল রানাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তেজগাঁও থানা সূত্র জানিয়েছে, মিজানুর রহমান গাজীপুরের জামিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি পরিবার নিয়ে ওই এলাকাতেই থাকেন। গতকাল দুপুরে মিজানুর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় জুমার নামাজ পড়েন। এ সময় মেয়েও তার সঙ্গে ছিল। নামাজ শেষে ব্যক্তিগত কাজে মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকায় আসেন তিনি। বিকেল ৪টার দিকে তারা বিজয় সরণি সিগন্যালে আটকে ছিলেন। সিগন্যাল ছাড়লে তাদের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন একসঙ্গে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর একপর্যায়ে তেজগাঁও থানার সামনে দেওয়ান পরিবহনের বাসের ধাক্কায় তারা মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় বাসের চাকা। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দম্পতির : কুমিল্লার বরুড়ায় ট্রাকচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরুড়া-লালমাই সড়কের দুতিয়ারপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারা কুমিল্লা শহর থেকে অটোরিকশায় উপজেলার ভৌতরী গ্রামে ফিরছিলেন। নিহতরা হলেন বরুড়া বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রশিদ (৬০) ও তার স্ত্রী বেগম আক্তার (৪৫)। স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা শহর থেকে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন আবদুর রশিদ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুতিয়ারপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দম্পতি নিহত হন। আহত হন ওই সিএনজির চালক।
সড়কে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের : স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা হলো না সাজিদের। নতুন স্কুলে প্রথম ক্লাস ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সাজিদের। সকালে মাকে বলেছিল স্কুল শেষে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সড়কে প্রাণ গেল তার। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার দোহারে উপজেলার মালিকান্দা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অটোরিকশার চাকায় তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। গুরুত্বও অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সিরাজ ও সাবিনা দম্পতির ছোট ছেলে ও ফাস্ট গ্লোরি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। সাজিদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাস্তা অবরোধ করে তার সহপাঠী ও এলাকাবাসী। এ সময় ঘাতক অটোচালকের শাস্তির দাবিতে প্রায় ১ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে তারা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দোহার থানার ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেন বলেন, স্বজনরা মামলা না করায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করায় স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
