নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের সামনে ছাগল চুরির অভিযোগে দুই তরুণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী দুই তরুণকে একটি কক্ষে মাটিতে ফেলে কয়েকজন এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছে। এরপর তাদের দুই পা জাপটে ধরে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কুতুবপুর ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার চেয়ারে বসে বিষয়টি দেখছেন ও আরও জোরে পেটানোর নির্দেশ দিচ্ছেন।
তবে এ ব্যাপারে আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘নাঈম ও রাতুলকে মারধরের সময় ছাগলের মালিক শরীফ মিয়া নিজেই তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ফেইসবুকে মারধরের ভিডিও কীভাবে গেছে। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, স্থানীয় ছেলেরা তার কাছ থেকে ভিডিওটি নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেছে।’
আহত নাঈমের মা নাজমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ছেলে প্রিন্টিং কারখানায় কাজ করে। ৩১ ডিসেম্বর রাতুলের সঙ্গে তাকেও মারতে মারতে নিয়ে গেছে। পরে আবার আলাউদ্দিন হাওলাদার তার অফিসে নিয়ে ইচ্ছামতো পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। একটা পাগলা কুকুরকেও মানুষ এভাবে পেটায় না। আমার ছেলে অন্যায় করলে আমাদের জানাতে পারত, পুলিশে দিত। আমরা ওই বর্বরদের নির্যাতনের বিচার চাই।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শাহী মহল্লা এলাকার শফিকুল ইসলামের দুটি বিদেশি জাতের ছাগল চুরি হয়। পরে ৩১ ডিসেম্বর রাতে কুতুবপুর ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার আব্দুর রব মাস্টারের ছেলে নাঈম (২৫) ও একই এলাকার রাতুলকে (৩০) পেটানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। এটা অবশ্যই অপরাধ। এভাবে যদি পিটিয়ে থাকে, আর কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
