ভুয়া সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০১ এএম

ভুয়া সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দুটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ৭ জানুয়ারি খুলনার খালিশপুর থেকে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন এইচএমএ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ এবং তার স্ত্রী মরশিদা আফরীন। তাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে। সিআইডি জানিয়েছে, চক্রের হোতার বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনিসহ অন্যরা সিআইডির নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তার দম্পতিকে দুই দিনের  রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের টিম-৩-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান। এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘চক্রটি সঞ্চয়পত্রগুলো কীভাবে সংগ্রহ করে তা জানার চেষ্টা করছি। তারা ভুয়া সঞ্চয়পত্রে নামের স্থানটি ফাঁকা রাখে। এরপর বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে ওই ভুয়া সঞ্চয়পত্রে নাম বসিয়ে দেয়। চক্রটির সঙ্গে ব্যাংকের ম্যানেজার ও ক্রেডিট অফিসার জড়িত, যাদের ওপরই এই সঞ্চয়পত্র সঠিক কি না তা তদন্তের দায়িত্ব ছিল। তারা ক্লিয়ারেন্স রিপোর্টে ভুয়া ওই সব সঞ্চয়পত্রকে আসল হিসেবে উল্লেখ করে। এরপরই তাদের নামে ওই সব সঞ্চয়পত্রের মূল টাকার ৮০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়।। এই ঋণের টাকা তারা ক্যাশ আকারে তুলে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও তারা টাকা ফেরত না দেওয়ায় সঞ্চয়পত্রগুলো সঠিক ছিল কি না, সে তদন্ত শুরু হয়। তখনই ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ বুঝতে পারে সেগুলো ছিল ভুয়া। উন্নতমানের প্রিন্টারে এসব ভুয়া সঞ্চয়পত্র প্রিন্ট দেওয়া হতো।’ আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ট্রাস্ট ব্যাংকের কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

মারুফ হোসেন এর আগে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ দলের ২১ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর কয়েকটি ব্যাংকে একই ব্যক্তির একাধিক নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন নামসর্বস্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলে ভুয়া সঞ্চয়পত্র, এফডিআরের বিপরীতে স্বনামে-বেনামে ব্যাংক লোন নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নিয়েছে বলে জানা যায়। ভুয়া সঞ্চয়পত্র দিয়ে ২১টি ব্যাংক লোনের মাধ্যমে এ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।’ তিনি বলেন, সিআইডির গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোস্তাক ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধলব্ধ ২ কোটির অধিক টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাদের নামে গুলশান-২-এ প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি ৯তলা বাড়ি, উত্তরায় শতকোটি টাকার ৬তলা বাড়ি, উত্তরখানে কোটি টাকার দোতলা বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মোস্তাক হাওলাদার একটি মামলার সাজায় পরোয়ানাভুক্ত হয়ে প্রায় ১৬ বছর পলাতক ছিলেন। তিনি তার স্থায়ী ঠিকানার বসতবাড়ি বিক্রি করে কিছুদিন ভারত ও মালয়েশিয়ায় আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১১ সালে দেশে ফিরে আবার প্রতারণা শুরু করেন। ভুয়া সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে গুলশান, ধানম-ি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় ৭টি মামলা হয়। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানায় ২০০৪ সালে এবি ব্যাংকের দায়ের করা মামলায় তিন মাস জেল খাটেন মোস্তাক। চক্রের অন্যতম সদস্য এবি ব্যাংক ধানম-ি শাখার তৎকালীন ম্যানেজার আসিরুল হক ২০০৬ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেল খেটে জামিনে মুক্ত হন। একই বছর তিনি হৃদরোগে মারা যান। আসিরুল হকের সহযোগী ছিলেন তার ক্রেডিট অফিসার, যিনি জামিনে আছেন। এবি ব্যাংকে তার চাকরি না থাকলেও ঢাকা শহরের অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরি করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। চক্রের হোতাসহ অন্যরা বর্তমানে শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বড় ব্যবসায় যুক্ত। সিআইডি তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত